স্মৃতি মন্ধানার ব্যাটে ইতিহাস, শেফালি বর্মার ব্যাটে প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি—এক ম্যাচে জোড়া নজির গড়ে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ১৯৫/৪ রান তোলে ভারত। জবাবে বাংলাদেশ মাত্র ৮১ রানে অলআউট। ১১৪ রানের বিশাল জয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল হরমনপ্রীত কৌরের দল।
নাগোয়ার কোরোগি স্পোর্টস পার্কে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক হরমনপ্রীত। শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন স্মৃতি ও শেফালি। পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে ভারত তুলে নেয় ৭২ রান। ওপেনিং জুটিতেই ম্যাচের ভিত তৈরি হয়ে যায়।
স্মৃতি মন্ধানা ১৯ বলে করেন ৩৭ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল চার ও ছক্কার দারুণ মিশেল। তবে ৩৭ রানেই থামতে হলেও ইতিহাস তৈরি হয়ে যায় তাঁর। এই ইনিংসের সময় নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটসকে টপকে মহিলাদের T20I ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়ে যান স্মৃতি। তাঁর রান পৌঁছে যায় ৪৭৬৫-তে।
স্মৃতির পর শেফালির তাণ্ডব
স্মৃতি ফিরে যাওয়ার পরেও বাংলাদেশের উপর চাপ কমেনি। বরং আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন শেফালি বর্মা। মাঝের দিকে কয়েকটি উইকেট পড়লেও রানের গতি থামতে দেননি তিনি।
চার মেরেছেন মাত্র তিনটি। কিন্তু ছক্কার বন্যা বইয়ে দেন শেফালি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে নয়টি ছক্কা। ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে যান ভারতীয় ওপেনার।
৪৯ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন শেফালি। নয়টি ছক্কা এবং তিনটি চারে সাজানো এই ইনিংস তাঁর আন্তর্জাতিক T20 ক্রিকেটের প্রথম শতরান। একই সঙ্গে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম শতরান করা ক্রিকেটারও হলেন তিনি।
শেফালির সঙ্গে অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরও গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। ৩৩ বলে ৪০ রান করেন তিনি। শেফালির সঙ্গে তাঁর জুটি ভারতকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান তোলে ভারত। বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯৬।
ভারতের বোলিংয়ে ধস বাংলাদেশের
ব্যাট হাতে বড় রান তোলার পর বল হাতেও বাংলাদেশকে কোনও সুযোগ দেয়নি ভারত। শুরু থেকেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ওপেনার দিলারা আখতার এবং সুলতানা খাতুন কিছুটা চেষ্টা করলেও ভারতের বোলিংয়ের সামনে সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপের আর কোনও ব্যাটার ১০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। অধিনায়ক নিগার সুলতানাও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৮১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
ভারতের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন দীপ্তি শর্মা। মাত্র ২.৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় ভারতের স্পিন আক্রমণও। ১১৪ রানে ম্যাচ জিতে ভারত নিশ্চিত করে অন্তত একটি পদক।
ফাইনালে ভারতের সামনে শ্রীলঙ্কা
অন্য সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় শ্রীলঙ্কা। ফলে এশিয়ান গেমসের মহিলা ক্রিকেটে সোনার লড়াইয়ে ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা। ফাইনাল হবে ২২ সেপ্টেম্বর।
২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসেও ভারত ও শ্রীলঙ্কা মহিলা ক্রিকেটের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল। এ বারও সোনার পদকের লড়াইয়ে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ায় সেই দ্বৈরথ নতুন মাত্রা পেল।
এক দিকে T20I ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড নিজের নামে করে ফেলেছেন স্মৃতি মন্ধানা, অন্য দিকে প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শতরান করে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন শেফালি বর্মা। তাঁদের দুরন্ত ব্যাটিংয়ের পর ভারতের বোলিং দাপট—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে সম্পূর্ণ আধিপত্য দেখিয়েই ফাইনালে পৌঁছল ভারত।



