তিন গোলে এগিয়ে থেকেও ম্যাচটা প্রায় হাতছাড়া করে ফেলেছিল ভারত। শেষ পর্যন্ত খেলা শেষ হওয়ার মাত্র ৪৯.২ সেকেন্ড আগে অভিষেকের শটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়সূচক গোল এল। ৪-৩ ব্যবধানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর পুরুষদের হকির ফাইনালে পৌঁছে গেল হরমনপ্রীত সিংহের ভারত।
এশিয়াডে এখনও পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে এগোচ্ছিল ভারত। আগের ম্যাচগুলিতে বড় ব্যবধানে জয় এলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে অন্য ছবি দেখা গেল। শুরুতে ৩-০ এগিয়ে যাওয়ার পরও পাকিস্তান দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ম্যাচ ৩-৩ করে ফেলে। টাইব্রেকারের সম্ভাবনা যখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, তখনই অভিষেকের শেষ মুহূর্তের গোল ভারতকে ফাইনালের টিকিট এনে দেয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ভারত। পঞ্চম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিংহ। ১৩ মিনিটে ফের পেনাল্টি কর্নার থেকে তাঁর ড্র্যাগ-ফ্লিকে ব্যবধান ২-০ করে ভারত। প্রথম কোয়ার্টারেই পাকিস্তানের উপর চাপ তৈরি করে ফেলেছিলেন হরমনপ্রীতরা।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও ভারতের নিয়ন্ত্রণ বজায় ছিল। ২৩ মিনিটে শিলানন্দ লাকরার তৈরি করা সুযোগ থেকে সুখজিৎ সিংহ গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন। তখন মনে হচ্ছিল, সেমিফাইনালও হয়তো ভারতের জন্য একতরফা হয়ে যাবে।
কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের ছবি বদলে যায়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে পাকিস্তান একটি পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান কমায়। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ভারত নিজেদের আগের ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি। পাকিস্তান ধীরে ধীরে চাপ বাড়াতে থাকে এবং ভারতের রক্ষণে একের পর এক সমস্যা তৈরি হয়।
তৃতীয় কোয়ার্টারের শেষ দিকে ভারতের দিলপ্রীত সিংহ সবুজ কার্ড দেখায় সাময়িকভাবে ১০ জনে খেলতে হয় ভারতকে। সেই পরিস্থিতির সুযোগ নেয় পাকিস্তান। ডান দিক দিয়ে আক্রমণ তৈরি করে হান্নান শাহিদ গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন। তিন গোলে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান তখন ম্যাচে পুরোপুরি ফিরে এসেছে।
চতুর্থ কোয়ার্টারে ভারতের রক্ষণাত্মক অবস্থানও কাজে আসেনি। ৪৯ মিনিটে ডান দিকের আক্রমণ থেকে ওয়াহিদ রানা গোল করে পাকিস্তানকে সমতায় ফেরান। ৩-০ থেকে ম্যাচ তখন ৩-৩।
এর পরেই শুরু হয় শেষ মুহূর্তের টানটান লড়াই। ভারত আক্রমণে উঠলেও গোল আসছিল না। পাকিস্তানও পাল্টা আক্রমণে জয়সূচক গোলের চেষ্টা করছিল। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ানোর সম্ভাবনাই ক্রমশ বাড়ছিল।
কিন্তু ঘড়িতে তখন মাত্র ৪৯.২ সেকেন্ড। ভারতের আক্রমণ থেকে সার্কেলে বল পান অভিষেক। তাঁর নেওয়া শট পাকিস্তানের ডিফেন্ডার সুফিয়ান খানের স্টিকে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। ৪-৩ এগিয়ে যায় ভারত।
শেষ মুহূর্তে পাকিস্তান আবার আক্রমণে উঠেছিল। কিন্তু ভারতের রক্ষণ আর সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালে চলে যায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত।
ভারতের হয়ে হরমনপ্রীত সিংহ দুটি গোল করেন। একটি করে গোল করেন সুখজিৎ সিংহ ও অভিষেক। পাকিস্তানের হয়ে গোল করেন আবু মাহমুদ, হান্নান শাহিদ এবং ওয়াহিদ রানা।
পরিসংখ্যানেও ভারতের দাপট স্পষ্ট। পাকিস্তানের ১২টির তুলনায় ভারত ২২ বার সার্কেলে ঢুকেছিল। বলের দখলও ছিল ভারতের বেশি। কিন্তু তিন গোলের লিড নষ্ট করে ম্যাচকে ৩-৩ করে ফেলা ফাইনালের আগে ভারতীয় শিবিরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে থাকল।
এই জয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের অপরাজিত থাকার ধারাও আরও দীর্ঘ হল। ভারতীয় পুরুষ হকি দল এখন ফাইনালে মুখোমুখি হবে মালয়েশিয়ার। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ২-১ হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে মালয়েশিয়া। সোনার লড়াই হবে ৩ অক্টোবর।
অর্থাৎ সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তের নাটক পেরিয়ে ভারত এখন আর একটি ম্যাচ দূরে সোনা থেকে। তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩-০ থেকে ৩-৩ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ফাইনালের আগে রক্ষণ এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের জায়গায় ভারতকে নতুন করে ভাবার সুযোগও দিয়ে গেল।



