১৫ দিন পঞ্চায়েতে না এলেই প্রশাসক? দিলীপের কড়া বার্তা, বদলাচ্ছে নিয়ম

পঞ্চায়েতে প্রধান-উপপ্রধানের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের আইনি ব্যবস্থা হয়েছে। কোচবিহারে রিভিউ বৈঠকের পর উন্নয়নের কাজ নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন দিলীপ ঘোষ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পঞ্চায়েতের কাজে অচলাবস্থা বরদাস্ত করা হবে না—কড়া বার্তা রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের। রবিবার কোচবিহারে তিনি জানান, কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান-উপপ্রধান দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে প্রশাসক বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। মূল লক্ষ্য, পঞ্চায়েতের কাজ যাতে থমকে না থাকে এবং সাধারণ মানুষ সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

রাজ্যে সরকার বদলের পর একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতে নির্বাচিত প্রধান ও উপপ্রধানের অনুপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে উন্নয়নমূলক কাজ, সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং পঞ্চায়েতের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত আইন সংশোধন করে অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে প্রশাসক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

১৫ দিনের নিয়ম আসলে কী?

দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, পঞ্চায়েতের কাজ কোনও ভাবেই দীর্ঘদিন আটকে রাখা যাবে না। তবে সংশোধিত আইনি কাঠামোয় শুধু প্রধান ১৫ দিন অফিসে না এলেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে প্রশাসক বসবে—বিষয়টি তেমন নয়।

আইন অনুযায়ী, প্রধান ও উপপ্রধান দু’জনই ১৫ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে এবং নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে কেউ দায়িত্ব নিতে রাজি না হলে, নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ এক্সটেনশন অফিসার বা তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার আধিকারিককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করতে পারে। সেই প্রশাসক সর্বোচ্চ ৩০ দিন পঞ্চায়েতের দায়িত্ব সামলাতে পারবেন।

এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হিসেবে সরকার জানিয়েছে, পঞ্চায়েতের নির্বাচিত নেতৃত্ব অনুপস্থিত থাকার কারণে যাতে গ্রামীণ পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ থমকে না যায়, তা নিশ্চিত করা।

কোচবিহারে রিভিউ বৈঠক দিলীপের

পঞ্চায়েত এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে জেলায় জেলায় পর্যালোচনা বৈঠক করছেন দিলীপ ঘোষ। রবিবার কোচবিহারে এমনই একটি রিভিউ মিটিংয়ে যোগ দেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, গ্রামীণ উন্নয়ন দফতরের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের জেলাশাসক, পঞ্চায়েত সচিব-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

দিলীপের বক্তব্য, পঞ্চায়েত স্তরে কিছু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। কোথাও অনাস্থা আনা হয়েছে, কোথাও আবার প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। এর ফলে বেশ কিছু পঞ্চায়েতে কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে।

‘উন্নয়নের পথে অন্তরায় হতে দেব না’

মন্ত্রী বলেন, পঞ্চায়েতের রাজনৈতিক সমস্যা থাকলেও তার প্রভাব যেন সাধারণ মানুষের উপর না পড়ে, সেটাই সরকারের লক্ষ্য। স্থানীয় বিধায়কদেরও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার কথা বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বর্ষাকালে কিছু উন্নয়নমূলক কাজে স্বাভাবিক ভাবেই সমস্যা তৈরি হয়। কিন্তু তার পাশাপাশি প্রশাসনিক কারণে কোনও প্রকল্প আটকে থাকুক, তা সরকার চায় না। গ্রামীণ এলাকায় সরকারি পরিষেবা এবং উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানোই এখন দফতরের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান মন্ত্রী।

পঞ্চায়েতের আর্থিক ক্ষমতা নিয়েও বদল

পঞ্চায়েতের কাজের গতি বাড়াতে শুধু অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে প্রশাসক নিয়োগ নয়, আর্থিক ক্ষমতার কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েতের আর্থিক কাজের দায়িত্ব সরকারি আধিকারিকদের হাতে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রধান ও উপপ্রধান অনুপস্থিত থাকার কারণে টানা দুই মাস গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈঠক না হলে, বিডিওর অনুমোদন নিয়ে পঞ্চায়েত সচিব বৈঠক ডাকতে পারবেন। ফলে নির্বাচিত নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতেও প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সরকারের যুক্তি, পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির কারণে যাতে সাধারণ মানুষের পরিষেবা বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন। আর সেই বার্তাই এ দিন কোচবিহার থেকে আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন