দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR ঘিরে এবার একাধিক হেভিওয়েটের নাম সামনে এল। বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আডবানী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরও নোটিস পেয়েছেন বলে রিপোর্টে জানা গিয়েছে। তালিকায় রয়েছেন নির্বাচন কমিশনার এস এস সন্ধু, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল এবং আরও একাধিক পরিচিত নাম।
এই নোটিস পাওয়ার অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে—এমন নয়। ভোটার তালিকায় থাকা তথ্যের সঙ্গে আগের SIR-এর তথ্যের মিল না থাকা বা কোনও ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে নোটিস দিয়ে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
কেন নোটিস আডবানী, জয়শংকরদের?
দিল্লির SIR-এ এমন ভোটারদের চিহ্নিত করা হচ্ছে, যাঁদের বর্তমান নথির সঙ্গে ২০০২ সালের আগের SIR-এর তথ্যের সরাসরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না অথবা তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
লালকৃষ্ণ আডবানীর ক্ষেত্রে পুরনো নির্বাচনী নথির সঙ্গে নাম বা পারিবারিক তথ্যের ম্যাপিং সংক্রান্ত সমস্যা সামনে এসেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ভাবে, এস জয়শংকর-সহ বেশ কয়েকজনের ক্ষেত্রেও আগের SIR-এর তথ্যের সঙ্গে বর্তমান নথি মিলিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়ায় এই ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে জবাব এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তালিকায় এস এস সন্ধু, কপিল সিব্বলও
নোটিস পাওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন নির্বাচন কমিশনার এস এস সন্ধু এবং প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা সাংসদ কপিল সিব্বল। তাঁদের ক্ষেত্রেও নির্বাচনী তথ্যের সঙ্গে আগের SIR-এর নথির মিল এবং অন্যান্য তথ্যগত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিদেশসচিব বিক্রম মিসরির নামও নোটিসপ্রাপকদের তালিকায় রয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি-সহ আরও কয়েকজন হেভিওয়েটের নাম নিয়েও রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
তবে নোটিস পাওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব বা ভোট দেওয়ার অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে—এমনটা নয়। এটি মূলত তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় নথি চাওয়ার প্রক্রিয়া।
কেজরিওয়ালও নোটিস পেয়েছেন
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নামও SIR-এর নোটিস তালিকায় রয়েছে। দিল্লির CEO দফতরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩১.৬৩ লক্ষ ভোটারকে ইতিমধ্যে নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকের নাম আগের SIR-এর ভোটার তালিকার সঙ্গে ম্যাপ করা যায়নি।
রেখা গুপ্তার ক্ষেত্রে অবশ্য বিষয়টি ইতিমধ্যেই যাচাই হয়ে গিয়েছে। তাঁর enumeration form-এ বয়স সংক্রান্ত একটি ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ ধরা পড়েছিল। এরপর বুথ লেভেল অফিসার বাড়িতে গিয়ে তথ্য ও নথি যাচাই করেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যাচাইয়ের পর তাঁর ভোটার এন্ট্রি বৈধ বলে নিশ্চিত হয়েছে এবং চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম থাকার কথা।
অন্য দিকে অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নাম আগের SIR-এর তথ্যের সঙ্গে ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দিয়ে বিষয়টি যাচাই করার সুযোগ রয়েছে।
ধনকড় থেকে মদন লোকুর—দীর্ঘ তালিকা
SIR-এর নোটিস তালিকায় প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়, তাঁর স্ত্রী সুদেশ ধনকড়, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মদন বি লোকুর, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম স্বামী এবং দিল্লির মন্ত্রী প্রবেশ সাহিব সিংয়ের নামও রয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ নোটিসের আওতায় শুধু কোনও একটি রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ রয়েছেন—এমন ছবি পাওয়া যাচ্ছে না। দিল্লির ভোটার তালিকায় যাঁদের নথিতে নির্দিষ্ট অসঙ্গতি বা পুরনো SIR-এর সঙ্গে ম্যাপিংয়ের সমস্যা ধরা পড়েছে, তাঁদেরই এই প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হচ্ছে।
SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি
দিল্লির SIR-এর স্বচ্ছতা এবং নোটিসের কারণ প্রকাশের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়েছে। নোটিসপ্রাপকদের নাম, নোটিস দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ নির্ধারণের মানদণ্ড প্রকাশের দাবি উঠেছে। এই বিষয়ে ২২ সেপ্টেম্বর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ফলে আডবানী, জয়শংকর, সিব্বল বা অন্যান্য হেভিওয়েটের নাম SIR-এর নোটিস তালিকায় থাকা নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা বাড়লেও, নোটিসের মূল উদ্দেশ্য আপাতত ভোটার তথ্য যাচাই। শেষ পর্যন্ত কার নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট নথি ও যাচাই-প্রক্রিয়ার পরই স্পষ্ট হবে।



