ইরানের পাল্টা হামলা (Iran Retaliatory Attack) ঘিরে ফের অগ্নিগর্ভ পশ্চিম এশিয়া (Middle East)। মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার জবাবে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালানোর দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব বলেছে, এই পদক্ষেপের জন্য আমেরিকাকে “পস্তাতে হবে”।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি (Ebrahim Azizi) শনিবার দাবি করেন, আলোচনার পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও আমেরিকা ফের হামলার পথ বেছে নিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সংঘর্ষবিরতির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন।
আজিজির কথায়, আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সংঘর্ষবিরতি ভেঙে যে হামলা চালানো হয়েছে, তার ফল ভোগ করতে হবে ওয়াশিংটনকে। তাঁর দাবি, দোষারোপের রাজনীতি দিয়ে পরিস্থিতি আর সামাল দেওয়া যাবে না।
উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার। হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) ওমানের (Oman) উপকূলের কাছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা সামনে আসে। এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে আমেরিকা। যদিও তেহরান সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
ইরানের দাবি, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করেই আমেরিকা পরিস্থিতি জটিল করেছে। একই সঙ্গে তেহরান ঘোষণা করে, হরমুজ প্রণালীর উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হবে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন বাহিনী আকাশপথে হামলা চালায় বলে জানানো হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (US Central Command) শুক্রবার ইরানে হামলার কথা নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি, ইরানের উপকূলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স (JD Vance) জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) বাস্তবায়ন নিয়ে ইরানের আপত্তি থাকলে আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হিংসার জবাবও প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই দেওয়া হবে।
এর পরেই ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা সামরিক হামলার দাবি সামনে আসে। তবে ঠিক কোন কোন মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে বা তাতে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান বা ওয়াশিংটন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ও ইরানের মধ্যে ভার্চুয়াল মাধ্যমে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হয়েছিল। সেখানে ১৪ দফা শর্তের পাশাপাশি ৬০ দিনের সংঘর্ষবিরতিতে দুই দেশ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। গত সপ্তাহেই সুইৎজ়ারল্যান্ডে (Switzerland) দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকও হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় সেই কূটনৈতিক অগ্রগতি কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।








