পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও তীব্র আকার নিল। আমেরিকার সামরিক অভিযানের পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জর্ডন, বাহরিন এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী নিয়েও নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে তেহরান, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
ইরানি সামরিক অভিযান শুরুর পর নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু সময়ের জন্য কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। কয়েক দিন আগেও ইরানি হামলার প্রভাবে ওই বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে খবর। সেই ঘটনায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছিল।
এদিকে হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত প্রণালী কার্যত নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে অনুমতি পাওয়া কিছু বাণিজ্যিক জাহাজকেও অপেক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ় প্রণালী। ফলে এই জলপথে যেকোনও ধরনের বাধা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ মূলত আমেরিকা ও তার মিত্রদের উপর কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, আলোচনার সুযোগ নষ্ট করলে তার মূল্য দিতে হবে। এরপরই মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করে বলে খবর।
মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে দাবি করা হয়েছে, ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের মোকাবিলাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব Pete Hegseth-ও ইঙ্গিত দেন যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির প্রধান Ebrahim Azizi স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছিলেন, সংঘাত কোনও নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আটকে থাকবে না। তাঁর মন্তব্যের পরই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
সেই আশঙ্কাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে মার্কিন উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইরানের এই পদক্ষেপ গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন নজর, এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয় কি না এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল পরিস্থিতি সামাল দিতে কী ভূমিকা নেয়।



