যে পুলিশ গুলি চালাল, তারাই তদন্ত করছে! বারুইপুর এনকাউন্টারে সিআইডি সরানোর দাবি, নতুন মামলায় প্রশ্নের মুখে রাজ্য

প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর তদন্তে সিআইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টে নতুন জনস্বার্থ মামলা। তদন্তকারী সংস্থা বদলের দাবিতে ফের চর্চায় বারুইপুর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি: বারুইপুরের সূর্যপুরে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর তদন্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)-এ দায়ের হওয়া নতুন জনস্বার্থ মামলায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যে পুলিশি অভিযানে অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে, সেই ঘটনার তদন্ত একই রাজ্য পুলিশের অধীনস্থ সংস্থা সিআইডি (CID) কীভাবে নিরপেক্ষভাবে করতে পারে? তদন্তকারী সংস্থা বদলের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র।

বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হন। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের সময় তিনি এক পুলিশকর্মীর অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। আত্মরক্ষার স্বার্থেই গুলি চালানো হয়। সেই ঘটনার তদন্ত এখন করছে সিআইডি। তবে সেই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েই আদালতে প্রশ্ন উঠেছে।

এই নিয়ে বারুইপুর এনকাউন্টার-কাণ্ডে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাগুলির একসঙ্গে শুনানি চলছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। আগামী ১৮ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।

নতুন মামলায় আবেদনকারীর দাবি, যে ঘটনার সঙ্গে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা সরাসরি যুক্ত, সেই ঘটনার তদন্ত একই বাহিনীর অধীনস্থ সংস্থার হাতে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। প্রকৃত সত্য সামনে আনতে হলে অন্য কোনও স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার হাতে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলেও আদালতে আবেদন করা হয়েছে। মামলাকারীর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী রঘুনাথ চক্রবর্তী।

আদালত অবশ্য জানিয়েছে, এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করার আগে রাজ্যের অবস্থান জানা জরুরি। রাজ্যের রিপোর্ট আদালতের সামনে এলে তবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এনকাউন্টারকে ঘিরে আদালতে আরও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, গভীর রাতে প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই সময় কোনও ভিডিও রেকর্ডিং হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। কেন রাতের অন্ধকারে এই প্রক্রিয়া চালানো হল এবং সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা চেয়ে আদালত বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপার অরবিন্দ কুমার আনন্দকে বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে, রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানান, জেরার সময় প্রভাস অপরাধের কথা স্বীকার করেছিলেন। সেই কারণেই তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়া আইন মেনেই হয়েছে বলে রাজ্যের দাবি। একই মামলায় গ্রেফতার হওয়া বাকি অভিযুক্তরা বর্তমানে জেল হেফাজতেই রয়েছেন। আগামী শুনানিতে রাজ্যের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই বহুচর্চিত এনকাউন্টার মামলার তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে আদালত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন