দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে বিজেপি কর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়ায় বাপি প্রামাণিক নামে এক বিজেপি কর্মীকে মারধর করে খুনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের যোগের অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশ। একই সঙ্গে বিজেপির স্থানীয় নেতা সুজন মণ্ডলের নামও এই ঘটনায় জড়িয়েছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, একটি পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, রবিবার রাতে ফোন করে বাপি প্রামাণিককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর মাঝরাস্তায় তাঁকে ঘিরে হামলা চালানো হয়। লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।
স্থানীয়দের দাবি, বাপি দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। রাজনৈতিক অশান্তির কারণে প্রায় এক দশক তাঁকে ঘরছাড়া থাকতে হয়েছিল বলেও দাবি স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি এলাকায় ফিরে আসেন এবং সম্প্রতি একটি দোকানও খোলেন। তাঁর এমন মৃত্যুতে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডলের পরিকল্পনাতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মী বাদল মণ্ডলও একই অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, হামলাকারীদের হাতে রড, লাঠি এবং আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তাঁরা সেখান থেকে চলে গেলেও পরে বাপি প্রামাণিককে মারধর করা হয়।
বাদল মণ্ডলের আরও অভিযোগ, দলেরই এক নেতার সঙ্গে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের যোগাযোগ নিয়ে তাঁরা আগে থেকেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই বিরোধের জেরেই বাপিকে নিশানা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর দাবি। অভিযুক্ত বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশ।
তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে ঘটনার অন্য একটি কারণ উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে মারামারি শুরু হয়। সেই সংঘর্ষেই গুরুতর আহত হন বাপি প্রামাণিক। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়, সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছিল, নাকি পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিবাদই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের রূপ নেয়—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। পুলিশ বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। ফলে আপাতত অভিযোগ ও পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যের মধ্যেই তদন্তের আসল দিকটি নির্ধারিত হবে।



