মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East) ফের তীব্র উত্তেজনা। জর্ডনে (Jordan) মার্কিন সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনার পর পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে আমেরিকা (United States)। বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের (Iran) একাধিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (US Central Command)। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। যদিও হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, একাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবারই পাল্টা জবাবের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় নতুন সামরিক অভিযান। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ইরানি হামলার জবাব দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)-র কেশম দ্বীপ (Qeshm Island)-এ অন্তত তিনটি বড় বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। দ্বীপের একটি জনবহুল এলাকাতেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শুধু কেশম দ্বীপ নয়, বুশেহর (Bushehr) শহরেও প্রবল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠার খবর প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কতজন নিহত ও আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার। অভিযোগ, জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, সেই হামলা শেষ মুহূর্তে প্রতিহত করা সম্ভব হয়। এরপরই পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয় ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টও বুধবার এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। সেই হুঁশিয়ারির পরই বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের একাধিক এলাকায় মার্কিন হামলার খবর সামনে আসে।
এই নতুন সামরিক অভিযানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেদিকেও নজর রয়েছে গোটা বিশ্বের।



