পশ্চিম এশিয়ার (Middle East) পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের (Iran) দাবি, মার্কিন হামলার জবাবে রবিবার ভোরে কুয়েত ও বাহরিনে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত ওয়াশিংটনের (United States) তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps বা IRGC) এই হামলা চালিয়েছে। তবে হামলায় ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে বাহরিনের (Bahrain) বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ইরানের কয়েকটি ড্রোন প্রবেশ করেছিল। তবে সেগুলি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। অন্যদিকে কুয়েতের (Kuwait) সেনাবাহিনীর দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম IRIB-এর দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক (Sirik) শহরে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে এলাকার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (United States Central Command বা CENTCOM)-এর অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে ইরান প্রথমে একটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজ এবং পরে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে যাওয়ার সময় ড্রোন হামলায় প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই ঘটনার পর ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স (Khatam al-Anbiya Central Headquarters)-এর মুখপাত্র ইব্রাহিম আল-ফিকার (Ebrahim Al-Fikar) সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ কড়া বার্তা দেন। তাঁর দাবি, ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাতের জবাব দেওয়া হবে এবং তার প্রভাব গোটা অঞ্চলের পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের সামরিক শক্তির প্রমাণ মিলবে।
এর কিছু সময়ের মধ্যেই কুয়েত ও বাহরিনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি সামনে আসে। তবে ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য থাকায় পরিস্থিতির উপর আন্তর্জাতিক মহল নিবিড় নজর রাখছে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়বে, নাকি কূটনৈতিক আলোচনার পথ খুলবে— এখন সেদিকেই নজর বিশ্ববাসীর।






