স্বাধীনতা দিবসের সকালে দক্ষিণ কলকাতার আশুতোষ কলেজে উত্তেজনা। জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেত্রী উপাসনা চৌধুরীর উপর ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠল। কলেজে ঢোকা নিয়ে প্রথমে বাধা, তার পরেই তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে কলেজ চত্বরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শনিবার ১৫ অগস্ট সকালে আশুতোষ কলেজে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন উপাসনা চৌধুরী ও তাঁর সঙ্গে থাকা তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। উপাসনা কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেত্রী হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু কলেজে ঢোকার সময় তাঁদের পরিচয়পত্র নিয়ে আপত্তি ওঠে বলে অভিযোগ।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকেরা তাঁদের ভিড় না করার জন্য বলেন। কে কলেজের পড়ুয়া বা কর্মী এবং কে বহিরাগত, তা নিয়ে শুরু হয় চাপানউতোর। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই উপাসনা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া শুরু হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, একের পর এক ডিম এসে তাঁর মাথা ও শরীরে লাগে। আচমকা এই ঘটনায় কলেজ চত্বরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে ঘটনার প্রতিবাদ করেন উপাসনা। তাঁর দাবি, কলেজের ভিতরে বহিরাগতরা উপস্থিত থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উপাসনার অভিযোগ, বিজেপি (BJP) এবং এবিভিপি (ABVP)-র সদস্যরাই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়েছেন। তাঁর আরও দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের আটকানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেনি। যদিও এই অভিযোগগুলি বিজেপি ও এবিভিপির পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে।
তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্য, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পর তাঁকেই ‘বহিরাগত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। তাঁদের দাবি, উপাসনা চৌধুরী সেখানে গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েন।
এই ঘটনাকে ঘিরে দু’পক্ষের বয়ানে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা দিয়েছে। উপাসনার দাবি যেখানে রাজনৈতিক হামলার, সেখানে বিজেপি ও এবিভিপির পাল্টা বক্তব্য, এটি জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। ফলে ডিম ছোড়ার ঘটনায় ঠিক কারা জড়িত ছিল এবং ঘটনার পিছনে কোনও পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনে একটি কলেজে জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এমন উত্তেজনার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে পরিস্থিতি হাতের বাইরে গেল, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ডিম ছোড়ার সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগই সামনে এসেছে। তদন্ত বা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আপাতত স্বাধীনতা দিবসের সকালে আশুতোষ কলেজের এই ঘটনা কলকাতার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার আবহ তৈরি করেছে।



