শনিবার ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চল। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ সংস্থা ইউএসজিএস (USGS) জানিয়েছে, কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৭ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল এনডে (Ende) শহরের প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। অগভীর গভীরতায় এই ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়। পরে সতর্কতা তুলে নেওয়া হলেও একাধিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর সামনে এসেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৫টা ৫৮ মিনিট নাগাদ ফ্লোরেসের কাছে প্রবল কম্পন অনুভূত হয়। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। অগভীর গভীরতায় এত শক্তিশালী কম্পনের জেরে ফ্লোরেস দ্বীপের একাধিক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ভবনের ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়।
ভূমিকম্পের পর উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বহু মানুষ উঁচু এলাকায় আশ্রয় নেন। কয়েকটি অঞ্চলে সুনামির ঢেউও রেকর্ড হয়েছে, যদিও সেগুলির উচ্চতা এক মিটারের কম ছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে এক বা দু’জনের মৃত্যুর খবর এলেও পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচে। পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভেঙে পড়া বাড়ির নীচে চাপা পড়ে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় সংস্থাও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।
ভূমিকম্পের জেরে ফ্লোরেসের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, গুদাম এবং সরকারি পরিকাঠামোর ক্ষতির খবর এসেছে। বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে, কোথাও কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলিতে রোগীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গিয়ে বাইরে অস্থায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থার কথাও জানা গিয়েছে।
কম্পনের পর একাধিক আফটারশকও অনুভূত হয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম নুসা তেংগারা-সহ আশপাশের এলাকায় প্রবল কম্পন টের পেয়েছেন বাসিন্দারা। নাজিওকেও (Nagekeo) প্রায় ২,০০০ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এলাকা ছেড়েছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’ (Ring of Fire)-এর মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। ফ্লোরেস অঞ্চলও অতীতে বড় ভূমিকম্প ও সুনামির সাক্ষী হয়েছে। ফলে এবারের শক্তিশালী কম্পনের পর প্রশাসনের তরফে উপকূলবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কয়েক দিন আগেই কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের খবর সামনে এসেছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ইন্দোনেশিয়ায় এই ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আপাতত সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার হলেও আফটারশকের সম্ভাবনা এবং নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর প্রশাসনের।



