প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আর কোচিংয়ের বিপুল খরচ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না—স্বাধীনতা দিবসে যুবসমাজের জন্য বড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। শনিবার দিল্লির লালকেল্লা (Red Fort) থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি জানান, দেশের যুবকদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং দেওয়ার ব্যবস্থা করবে কেন্দ্র। মধ্যবিত্ত ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের উপর কোচিংয়ের বাড়তি চাপ কমানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোচিং সংস্কৃতি এখন বহু পরিবারের কাছে বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্তানকে কোচিংয়ে না পাঠালে সে পিছিয়ে পড়তে পারে—এমন একটা ধারণা অনেক অভিভাবকের মধ্যে তৈরি হয়েছে। ফলে সন্তানদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পরিবারকে বিপুল অর্থ খরচ করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
এই পরিস্থিতির বদল আনতেই বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের সিদ্ধান্ত বলে জানান মোদি। তাঁর বক্তব্য, দেশের তরুণদের এমন সুযোগ দিতে হবে যাতে পরিবারের কাছাকাছি থেকেই তারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন পড়াশোনার সুযোগ আরও বেশি সংখ্যক যুবকের কাছে পৌঁছবে, অন্যদিকে কোচিংয়ের জন্য পরিবারের উপর তৈরি হওয়া আর্থিক চাপও কমবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশের শক্তিশালী ডিজিটাল পরিকাঠামোকে কাজে লাগানো হবে। একইসঙ্গে দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যুক্ত করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চল বা ছোট শহরের পড়ুয়ারাও বাড়িতে বসে মানসম্মত প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে পারেন।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোচিং নির্ভরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে সিভিল সার্ভিস, সরকারি চাকরি, ব্যাঙ্কিং, রেল, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিয়োগ পরীক্ষা-সহ একাধিক পরীক্ষায় সাফল্যের জন্য অনেক পড়ুয়া দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি কোচিংয়ের উপর নির্ভর করেন। শহরের পাশাপাশি জেলা ও মফস্সলের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেও সেই খরচ বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মোদির বক্তব্যে তাই শুধু একটি নতুন পরিষেবা চালুর ঘোষণা নয়, শিক্ষার সুযোগকে আরও সহজলভ্য করার বার্তাও উঠে এসেছে। প্রযুক্তির সাহায্যে বাড়িতে বসে প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি হলে অর্থনৈতিক কারণে পিছিয়ে পড়া অনেক পড়ুয়া উপকৃত হতে পারেন। তবে এই অনলাইন কোচিংয়ে কোন কোন পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত হবে, কবে থেকে পরিষেবা চালু হবে এবং কীভাবে ছাত্রছাত্রীরা এতে যুক্ত হতে পারবেন, সে বিষয়ে এদিন বিস্তারিত তথ্য দেননি প্রধানমন্ত্রী।
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ও নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যুবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রস্তুতির সুযোগ নিয়ে আন্দোলনও হয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তর (Jantar Mantar)-সহ বিভিন্ন জায়গায় যুবকদের বিক্ষোভ সেই অসন্তোষের ছবি সামনে এনেছিল।
এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির খরচ কমানোর কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং কত দ্রুত দেশের যুবসমাজের কাছে বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং পৌঁছয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারের পড়ুয়াদের কাছে এই পরিষেবা কতটা কার্যকর হয়ে ওঠে, সেটিই হবে এই ঘোষণার বড় পরীক্ষা।



