আমন্ত্রণ ছিল, এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পরেই বসার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। তারপরও শনিবার ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির লালকেল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেখা গেল না লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)-কে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge)-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে টানা দ্বিতীয় বছর স্বাধীনতা দিবসের লালকেল্লার অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেন রাহুল।
এবারের অনুষ্ঠানে প্রায় ৫,০০০ জন বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা ও গণিত অলিম্পিয়াডে পদকজয়ী ১৯ জন পড়ুয়াও ছিলেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীকেও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
বিরোধী দলনেতার সাংবিধানিক মর্যাদা ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমতুল্য। সেই কারণে প্রোটোকল মেনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পরেই তাঁর বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত আসন ফাঁকাই থেকে যায়। একইভাবে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও।
রাহুলের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তাই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, গত বছরও লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি তাঁকে। ফলে পরপর দু’বছর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাহুলের সঙ্গে লালকেল্লার আসন নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর বসার জায়গা নিয়ে আপত্তি তুলেছিল কংগ্রেস। দলের অভিযোগ ছিল, লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও রাহুলকে সামনের সারিতে না বসিয়ে দ্বিতীয় সারির শেষদিকে জায়গা দেওয়া হয়েছিল।
সাধারণত সরকারি অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতার জন্য সামনের সারিতে আসন বরাদ্দ করা হয়। তাই ২০২৪ সালে রাহুলের আসন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল কংগ্রেস। বিষয়টিকে ‘অপমানজনক’ বলেও আক্রমণ করা হয়েছিল। সেই বিতর্কের পরই রাহুল আর লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।
যদিও কংগ্রেসের অভিযোগ তখন খারিজ করেছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। মন্ত্রকের ব্যাখ্যা ছিল, অলিম্পিয়ানদের জন্য আসন বরাদ্দ করতে গিয়ে ওই বছরের বসার বিন্যাসে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছিল। ফলে রাহুলকে ইচ্ছাকৃত ভাবে পিছনের সারিতে বসানো হয়নি বলেই সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল।
এবারের পরিস্থিতি অবশ্য কিছুটা আলাদা। আগে থেকেই রাহুলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পরেই তাঁর আসন নির্ধারিত ছিল। তারপরও তিনি অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ায় আগের আসন-বিতর্কের প্রসঙ্গ ফের সামনে এসেছে।
এর মধ্যেই সদ্য শেষ হয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশন। গোটা অধিবেশন জুড়েই সরকার ও বিরোধীদের সংঘাতে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে সংসদ। বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের প্রতিবাদ ও সরকারের সঙ্গে টানাপড়েনে সংসদের কাজকর্মও ব্যাহত হয়েছে।
অধিবেশন শেষ হওয়ার পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)-র দেওয়া চা-চক্রও বয়কট করে কংগ্রেস। সেই সিদ্ধান্তে তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টিও সামিল হয়েছিল। ফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে রাহুল ও খাড়্গের অনুপস্থিতিকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটেও দেখছে রাজনৈতিক মহল।
এদিন লালকেল্লায় বিভিন্ন ক্ষেত্রের কৃতীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সরকারের তরফে বিশেষ আমন্ত্রিতদের সামনে রেখে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান সাজানো হলেও বিরোধী দলনেতার আসন খালি থাকাই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠল। তবে রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেসের তরফে এদিন তাঁর অনুপস্থিতির নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।



