দেশের বহু প্রতীক্ষিত জনগণনা ২০২৬ (Census 2026)-এর প্রথম ধাপ আজ, শনিবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল। এবার প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ নাগরিকদের জন্য চালু করা হয়েছে Self Enumeration বা স্ব-শুমারির ব্যবস্থা। অর্থাৎ সরকারি কর্মীর জন্য অপেক্ষা না করে নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালে নিজেরাই পরিবারের তথ্য নথিভুক্ত করতে পারবেন নাগরিকরা। এই ডিজিটাল উদ্যোগে জনগণনার কাজ আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজ হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
প্রথম পর্যায়ের স্ব-শুমারি ১ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত চলবে। এরপর ১৬ অগস্ট থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপের Field Enumeration, যেখানে প্রশিক্ষিত গণনাকারীরা সরাসরি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এই পর্ব চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
স্ব-শুমারির জন্য নাগরিকদের প্রথমে জনগণনার নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে লগ-ইন করার পর ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে। শুরুতেই রাজ্যের নাম, পরিবারের প্রধানের নাম, মোবাইল নম্বর এবং ই-মেল আইডি দিতে হবে। এরপর নিজের পছন্দের ভাষা নির্বাচন করার সুযোগ থাকবে।
এই তথ্য জমা দেওয়ার পর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) পাঠানো হবে। ওটিপি যাচাই সম্পন্ন হলে পরবর্তী ধাপে জেলা, পিন কোড, গ্রাম, শহর বা এলাকার নাম দিতে হবে। এরপর পোর্টালে একটি ডিজিটাল মানচিত্র দেখা যাবে, যেখানে নিজের বাড়ির সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করতে হবে।


পরবর্তী ধাপে পরিবারের আবাসন-সংক্রান্ত তথ্য বা House Listing পূরণ করতে হবে। সমস্ত তথ্য জমা দেওয়ার পর একটি Preview স্ক্রিনে আবেদনকারী পুরো ফর্মটি একবার যাচাই করার সুযোগ পাবেন। সব তথ্য সঠিক থাকলে Final Submit অপশনে ক্লিক করলেই আবেদন সম্পূর্ণ হবে।
আবেদন সফলভাবে জমা পড়ার পর একটি নির্দিষ্ট Enumeration ID তৈরি হবে। ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে সেই আইডি সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে, কলকাতায় জনগণনার কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের এই কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য, প্রত্যেক পড়ুয়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অন্তত ১০টি পরিবারের তথ্য নথিভুক্ত করতে সহায়তা করবে।
কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে (Smita Pandey) জানিয়েছেন, বর্তমান প্রজন্ম মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারে দক্ষ হওয়ায় তারা এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। পাশাপাশি পুরসভার কর্মীদেরও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে জনগণনার কাজ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা যায়।
সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য ১ অগস্ট থেকেই কলকাতার প্রতিটি বরো অফিসে পাঁচটি করে বিশেষ হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন এবং অনলাইন স্ব-শুমারি বা জনগণনা সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যায় নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন।
ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণনাকে আরও সহজ ও অংশগ্রহণমূলক করার এই উদ্যোগ দেশের প্রশাসনিক তথ্যভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য জমা দেওয়ার জন্য নাগরিকদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।



