ইরানকে ফের কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ‘চুক্তি না মানলে কঠোর পদক্ষেপ’ হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

সুইজারল্যান্ডে বৈঠকের পর ইরানের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি লঙ্ঘন হলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও ইরানকে নিয়ে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ফের তেহরানের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে না চলে বা তাদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চলছে।

রবিবার সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক দিন আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়ন এবং পর্যালোচনা নিয়েই মূলত এই আলোচনা হয়। পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফেরানোর লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।

তবে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, বৈঠকের প্রথম পর্যায় ইতিবাচক পরিবেশে হলেও পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। একটি বিরতির পর ফের আলোচনায় বসার কথা থাকলেও ট্রাম্পের কড়া মন্তব্যের জেরে ইরানি প্রতিনিধি দল বৈঠক থেকে সরে যায় বলে খবর। যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষের তরফে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, চূড়ান্ত চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, আলোচনায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল না।

এরই মধ্যে একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট Hormuz Strait-এ যদি ইরান কোনও ধরনের বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাব দিয়েছে তেহরানও। ইরানি প্রতিনিধি দলের সদস্য মহম্মদ বাঘের কলিবফ বলেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ে মন্তব্য করার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আরও সংযত হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনও আগ্রাসনের মোকাবিলা করতে দেশ প্রস্তুত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা হলেও দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস এখনও রয়ে গেছে। ফলে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছনো সহজ হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মহল যখন আলোচনার উপর জোর দিচ্ছে, তখন পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এখন নজর থাকবে ভবিষ্যতের কূটনৈতিক আলোচনায় এবং দুই দেশ কীভাবে নিজেদের অবস্থান সামলায় তার উপর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর