আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে যখন নতুন করে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে, ঠিক সেই সময়েই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য। স্যুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাঝেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রবিবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার পথে হাঁটে, তাহলে তার ফল ভয়াবহ হতে পারে। তাঁর দাবি, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক করিডরের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প আরও বলেন, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমেরিকা আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে। এমনকি এই জলপথ ব্যবহার করে হওয়া তেল পরিবহনের ওপর বিশেষ শুল্ক বা টোল আরোপের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি, পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক ও কৌশলগত ভূমিকা পালন করে, তার মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন।
এর আগেই ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী ও কার্যকর শান্তি চুক্তি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে না হলে বিকল্প অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক নীতি বিবেচনা করা হতে পারে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক বাজারেও নজর কেড়েছে।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে তেহরান কোনও অবস্থাতেই সরে আসবে না। তাঁর বক্তব্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি দেশের সার্বভৌম অধিকারের অংশ এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও সেই অবস্থান পরিবর্তন হবে না।
এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প আরও কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান যদি আলোচনায় নমনীয় না হয়, তাহলে ওয়াশিংটনের হাতে আরও নানা কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিকল্প খোলা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সমঝোতার ফলে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে তেল রফতানি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই উত্তপ্ত বক্তব্যের মধ্যেই স্যুইজারল্যান্ডে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় আড়াই মাসেরও বেশি সময় পর মুখোমুখি আলোচনায় বসে ওয়াশিংটন ও তেহরান। বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং লেবাননে চলমান সংঘাত।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকা JD Vance বৈঠকের পর জানান, ইরান যদি পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধির অভিযোগ থেকে সরে এসে গঠনমূলক ভূমিকা নেয়, তাহলে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার পক্ষে এবং চলমান সংঘাত প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর এই আলোচনার পরবর্তী ধাপের দিকে। কারণ একদিকে কঠোর হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে কূটনৈতিক সংলাপ— এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই আগামী দিনে আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।



