বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে মন্দির ও বিগ্রহ ভাঙচুরের অভিযোগ, পাশাপাশি মৌলবাদী হুমকির প্রতিবাদে রাস্তায় নামলেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, বগুড়া, ফেনী, দিনাজপুর, মুন্সিগঞ্জ ও গাইবান্ধাসহ একাধিক জেলায় শনিবার বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার দাবিই ছিল এই কর্মসূচির মূল সুর।
প্রতিবাদ কর্মসূচির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে উত্তর বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি। অভিযোগ, সেখানে শ্রীরামচন্দ্রের একটি বৃহৎ প্রতিকৃতি নির্মাণের কাজ চলাকালীন একটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনাকে ঘিরেই সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সনাতনী সংগঠনগুলির মধ্যে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের দাবি, শুধু নির্মাণকাজ বন্ধ করাই নয়, প্রতিবাদের নামে শ্রীরামচন্দ্রের প্রতিকৃতির অবমাননাও করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির ও উপাসনালয়ে হামলা কিংবা ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেয় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন Bangladesh Puja Udjapan Parishad এবং Bangladesh Hindu Buddhist Christian Unity Council-এর নেতৃবৃন্দ। তাঁরা সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে বক্তারা অভিযোগ করেন, কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠীর উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। মন্দির, বিগ্রহ এবং ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
প্রতিবাদ সভা শেষে ঢাকার রাজপথে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। একই ধরনের কর্মসূচি দেশের অন্যান্য জেলাতেও পালিত হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও স্বাধীনতার চেতনা অনুযায়ী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে বারবার উচ্চারিত হয়েছে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা। বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দেশ, যেখানে প্রত্যেকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা সমানভাবে সুরক্ষিত হওয়া প্রয়োজন।
বর্তমানে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। তবে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির দাবি, বিচ্ছিন্ন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শুধু আশ্বাস নয়, কার্যকর পদক্ষেপ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি।



