বাংলাদেশের গাইবান্ধায় নির্মীয়মাণ ৮২ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি প্রকল্প হঠাৎ স্থগিত হওয়াকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রামমূর্তি হিসেবে পরিকল্পিত এই প্রকল্পের কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন নির্বাসিত লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী তসলিমা নাসরিন। তিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে রামমূর্তিটি নির্মাণের কাজ চলছিল। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, কাজের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে মন্দিরের উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, বিশেষ কারণে আপাতত নির্মাণকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।
যদিও প্রকল্প স্থগিতের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ্যে জানানো হয়নি, স্থানীয় মহলের একাংশের দাবি, শুরু থেকেই এই প্রকল্পকে ঘিরে বিভিন্ন ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর আপত্তি ও বিরোধিতা ছিল। মন্দিরের অর্থায়ন এবং নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে জানা যায়।
এই পরিস্থিতিতে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তসলিমা নাসরিন বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা যদি একটি মৌলিক অধিকার হয়, তবে তা সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু—উভয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তাঁর প্রশ্ন, দেশে নতুন নতুন মসজিদ নির্মিত হতে পারলে একটি রামমূর্তি বা মন্দির নির্মাণ নিয়ে এত আপত্তি কেন?
তসলিমা আরও দাবি করেন, প্রকল্পটিকে ঘিরে যে ধরনের হুমকি, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং বিদ্বেষমূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, কোনও মতভেদ বা ধর্মীয় অবস্থান অন্য সম্প্রদায়ের উপাসনালয় বা ধর্মীয় প্রকল্পে বাধা দেওয়ার কারণ হতে পারে না।
পলাশবাড়ি এলাকায় অতীতে হিন্দু মন্দিরে হামলা এবং প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। নতুন করে এই প্রকল্প স্থগিত হওয়ার ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রশ্ন আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
এদিকে বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের দাবি, স্থানীয় কিছু ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের পরই প্রকল্পটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি অসমাপ্ত মূর্তিটি সরিয়ে দেওয়ার দাবিও উঠেছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও সরকারি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে প্রকল্প স্থগিতের প্রকৃত কারণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলির উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে ধর্মীয় সহাবস্থান, সংখ্যালঘু অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।



