ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ইস্যুতে সরব এনসিপি, শাহবাগের মঞ্চ থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য নাসিরউদ্দীনের

শাহবাগের প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা, কথিত ‘পুশ-ইন’ ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করলেন এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কথিত ‘পুশ-ইন’, সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঢাকার শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও নিশানা করলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী।

সোমবার রাজধানী ঢাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাসিরউদ্দীন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, সীমান্তে নিরাপত্তা ও নাগরিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের বিদেশনীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। নাসিরউদ্দীনের অভিযোগ, অতীতে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে স্বাধীন অবস্থান সবসময় স্পষ্ট ছিল না। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের মানুষ আরও স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম নীতির প্রত্যাশা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করেও মন্তব্য করেন এনসিপি নেতা। তাঁর বক্তব্য, দেশের জনগণ এমন কোনও রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করবে না, যা জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্নে আপসের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে হতে পারে।

সমাবেশ চলাকালীন মৌলানা ভাসানীকে উদ্ধৃত করে একটি বিতর্কিত মন্তব্যও করেন নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী। সম্প্রতি ভারতীয় রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীর এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ আমার, অসম আমার, মণিপুর আমার…”। এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা, অবৈধ অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত অভিযোগ এবং সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব বিষয়ে দ্রুত, কার্যকর এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

একইসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পরিসরে কূটনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হলে সীমান্ত-সংক্রান্ত উত্তেজনা কমানো সম্ভব হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সীমান্ত ইস্যু আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর