ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের জাহাজে হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানির খবর সামনে আসার পর নতুন করে আরও একটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে সেই জল্পনায় ইতি টেনে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নতুন করে কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি।
বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে ওমান উপসাগরে ‘লিয়াকি ফ্রিডম’ নামের একটি বাণিজ্যতরী হামলার মুখে পড়েছে। ওই জাহাজে ভারতীয় নাবিকরাও কর্মরত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ভারত সরকার সরাসরি জাহাজটির প্রধান আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে।
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, জাহাজটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি। জাহাজে থাকা সমস্ত নাবিক ও কর্মীরা নিরাপদ এবং সুস্থ রয়েছেন।
তবে গত কয়েক দিনে ওমান উপসাগরে একাধিক বাণিজ্যতরী হামলার শিকার হয়েছে বলে খবর। বুধবার পালাউয়ের পতাকাবাহী এমটি সেট্টেবেল্লো নামের একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই জাহাজে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে ২৪ জন ভারতীয়।
হামলার পর জরুরি বার্তা পাঠানো হলে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ২১ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হলেও তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবর সামনে আসে, যা গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে সোমবার মাদাগাস্কারের পতাকাবাহী এমটি মারিভেক্স নামের আরেকটি জাহাজেও হামলার অভিযোগ ওঠে। সেখানে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত থাকলেও সৌভাগ্যবশত কোনও প্রাণহানি হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে এমটি জলবীর নামের একটি বাণিজ্যতরীও হামলার মুখে পড়ে বলে জানা যায়। ওই জাহাজে ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। যদিও তাঁদের কারও ক্ষতি হয়নি বলে সূত্রের খবর।
এখনও পর্যন্ত ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিক থাকা তিনটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাগুলি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
এদিকে হামলার কারণ ব্যাখ্যা করে মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সমুদ্রপথে অবরোধ জারি থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি জাহাজ ইরানের বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। সেই কারণেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তাদের দাবি।
ভারত সরকার ইতিমধ্যেই ঘটনাগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ দেশের অন্যতম অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক স্তরেও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। ফলে ওমান উপসাগরের পরিস্থিতি এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা এখন দিল্লির নজরের কেন্দ্রেই রয়েছে।



