‘আজ রাতেই বিরাট আঘাত’! ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, খার্গ দ্বীপ দখল নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য

ইরানের বিরুদ্ধে বড় হামলার ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। খার্গ দ্বীপ ও তেল-গ্যাস ভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাঁর মন্তব্যে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে বড়সড় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকা ‘আজ রাতেই’ বিরাট আঘাত হানতে পারে।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা এবং একাধিক প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ইতিমধ্যেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে সেখানেই থেমে না থেকে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শীঘ্রই আরও বড় ধরনের হামলা চালাবে।

এই মন্তব্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, মার্কিন প্রশাসন কি ইরানের বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত সামরিক অভিযান শুরু করতে চলেছে? আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

শুধু সামরিক হামলার হুঁশিয়ারিই নয়, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে খার্গ দ্বীপ-সহ ইরানের বড় তেল ও গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে আমেরিকা। একই সঙ্গে ইরানের জ্বালানি বাজারের উপর প্রভাব বিস্তারের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প খার্গ আইল্যান্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চললেও ওই কৌশলগত দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর পরিকল্পনার অংশ ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। দেশটির বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপ থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি করা হয়। প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদনের কারণে খার্গকে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবেও ধরা হয়। এই তেলের একটি বড় অংশ যায় চিনের বাজারে।

তবে ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে জল্পনা বাড়লেও, ইরান দখল বা পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি পরিকল্পনার কথা মার্কিন প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি, তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ট্রাম্পের এই নতুন হুঁশিয়ারি ঘিরে আগামী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর