বাংলাদেশের রাজনীতিতে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর একসময় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তিনি। দেশের মানুষ ও আওয়ামি লিগের কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেই আপাতত অবসর-ভাবনা স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছেন শেখ হাসিনা।
একান্ত সাক্ষাৎকারে আওয়ামি লিগ সভানেত্রী বলেন, তাঁর বাবা Sheikh Mujibur Rahman তাঁকে মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকার শিক্ষা দিয়েছিলেন। সেই আদর্শ থেকেই তিনি আজও সরে আসতে চান না। তাঁর কথায়, “আমার নেতাকর্মীরা নির্যাতিত, দেশের মানুষ বিপদের মধ্যে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আমি কীভাবে বিশ্রামে চলে যাই?”
হাসিনার অবসর নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল তাঁর ছেলে Sajeeb Wazed Joy-এর এক মন্তব্যকে ঘিরে। সেই প্রসঙ্গেই তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনার ইচ্ছা তাঁর বহুদিনের। অতীতেও দলীয় কাউন্সিলে তিনি তরুণ নেতৃত্বের কথা বলেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে আপাতত দূরে রেখেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হাসিনা দাবি করেন, গণতন্ত্র আক্রান্ত এবং আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক কার্যক্রম কার্যত বাধাগ্রস্ত। তাঁর অভিযোগ, দলের বহু নেতা-কর্মী কারাগারে, অনেকে ঘরছাড়া এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি ক্ষমতা চাই না। কিন্তু জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারি না।” দেশের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হওয়ার পরই অবসরের কথা ভাববেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে হাসিনা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আওয়ামি লিগ কোনও পারিবারিক প্রতিষ্ঠান নয়। তাঁর মতে, দলীয় কাউন্সিল এবং কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই আগামী নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে। যোগ্যতা, ত্যাগ, আদর্শ এবং সাংগঠনিক দক্ষতাই নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রধান মানদণ্ড হবে।
দলীয় পুনর্গঠন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তিনি। হাসিনার দাবি, বর্তমান সংকটের মধ্য দিয়ে আওয়ামি লিগ একটি ‘প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণ’-এর পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা আদর্শে বিশ্বাসী, তাঁরা এখনও দলের পাশে রয়েছেন, আর সুবিধাবাদীরা সরে গিয়েছেন। এতে দল দুর্বল হয়নি, বরং আরও শক্তিশালী হয়েছে বলেই তাঁর মত।
তবে প্রবীণ নেতাদের গুরুত্বও অস্বীকার করেননি তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবাস এবং ত্যাগের কথা উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা দলের মূল্যবান সম্পদ। একইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেমিক ও মেধাবী তরুণদের নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনাও ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী শোনালেন হাসিনা। তাঁর দাবি, আওয়ামি লিগকে অতীতে যেমন কোনও শক্তি মুছে ফেলতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। জনগণের সমর্থন নিয়েই তিনি দেশে ফিরবেন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
রাজনীতি থেকে অবসর নয়, বরং দেশের বর্তমান সংকটকালে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে শেখ হাসিনার এই বার্তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল।



