বাংলাদেশে সাংবাদিকদের উপর দমন-পীড়নের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একাধিক সাংবাদিক সংগঠন দাবি করেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসনিক আমলে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হারে মামলা, গ্রেফতারি এবং পেশাগত বাধার ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার ইউনূসের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবিও উঠতে শুরু করেছে।
সাংবাদিকদের একটি সংগঠন ‘নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট’ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, গত প্রশাসনিক পর্বে শতাধিক সাংবাদিক নানা ধরনের আইনি ও পেশাগত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। সংগঠনের অভিযোগ, বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।


প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেকের সরকারি অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল এবং বিভিন্ন প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল হওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, কয়েকজন সাংবাদিকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যেগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
সাংবাদিক সংগঠনগুলির বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। তারা বন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি, চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।


সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতেও একই দাবিগুলি তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এদিকে বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের কাছেও এই বিষয়গুলির সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, পূর্ববর্তী সময়ের মামলাগুলির অনেকগুলিই এখনও নিষ্পত্তি হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিটও দাখিল করা হয়নি।
তবে মুহাম্মদ ইউনূস বা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের তরফে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যার মধ্যে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নই এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



