পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে স্বস্তির বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বন্দরগুলির উপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা করে তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা জাহাজগুলি ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিকভাবে চলাচল শুরু করতে পারবে। এই ঘোষণার পর বিশ্ব তেল বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
শুক্রবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা বহু জাহাজ এবার গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করতে পারবে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুধু অবরোধ প্রত্যাহারই নয়, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি।
তবে একইসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানকে কোনও অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রাখার বিষয়েও তেহরানের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে পাতা মাইন অপসারণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবে ইরান। এর ফলে তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলির চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে কোনও ধরনের অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি অবরোধ শিথিল হওয়ার প্রক্রিয়া বাস্তবে কার্যকর হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ইতিবাচক প্রভাব জ্বালানির দামের উপরও পড়তে পারে।
পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল কত দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়, তার দিকে।



