ইদ-উল-আজহার কুরবানিকে ঘিরে ফের রক্তাক্ত ছবি বাংলাদেশে। ঢাকায় কুরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সময় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। অন্যদিকে ফরিদপুরে কুরবানির মাংস ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে জখম হয়েছেন অন্তত ২০ জন। ইদের আনন্দের মধ্যেই একাধিক দুর্ঘটনা ও অশান্তির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কুরবানির সময় দুর্ঘটনার একের পর এক ঘটনা সামনে আসে। গরুর লাথি, শিংয়ের গুঁতা এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বহু মানুষ আহত হন। তাঁদের মধ্যে অনেককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত অন্তত ৮০ জন আহত ব্যক্তি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন। গুরুতর জখম ২০ জনকে পরে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহতদের অধিকাংশই পুরান ঢাকা, নারিন্দা, ওয়ারি, লালবাগ, চকবাজার, মিরপুর, উত্তরা, ধানমণ্ডি, বাড্ডা এবং পল্লবী-সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন। ইদের দিনে বিপুল সংখ্যক আহত মানুষ আসায় হাসপাতাল এলাকাতেও চাপ তৈরি হয়।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কলিন্স মল্লিক জানিয়েছেন, অধিকাংশ দুর্ঘটনাই অসাবধানতার কারণে ঘটেছে। কেউ গরুর লাথি বা শিংয়ের আঘাতে আহত হয়েছেন, আবার কেউ মাংস কাটতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রে হাত-পা কেটে ফেলেছেন।
চিকিৎসকদের মতে, প্রতি বছর ইদ-উল-আজহার সময় এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেও এ বছর আহতের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। কুরবানির সময় নিরাপত্তা বিধি মানা না হলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুরবানির মাংস কোথায় ভাগ করা হবে, তা নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। স্থানীয় সূত্রে খবর, মসজিদ এলাকায় বসে মাংস ভাগ করা হবে নাকি বাড়িতে বসে তা করা হবে— এই বিতর্ক থেকেই উত্তেজনা ছড়ায়। পরে তা সংঘর্ষে পরিণত হলে অন্তত ২০ জন আহত হন।
সব মিলিয়ে ইদের উৎসবের দিনেও কুরবানি ঘিরে দুর্ঘটনা ও সংঘর্ষের এই ছবি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, সচেতনতা ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা ছাড়া ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে।



