মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আশা জাগার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের যুদ্ধের কালো মেঘ। ইজ়রায়েল ও হেজ়বোল্লার মধ্যে সংঘর্ষবিরতির সমঝোতা হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনা এবং গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা।
শুক্রবার রাতেই সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ইজ়রায়েল এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হেজ়বোল্লা। ফলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মাঝে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশও আশা করেছিল, এর ফলে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আটকে থাকা শান্তি প্রক্রিয়া নতুন গতি পাবে।
কিন্তু সেই আশার মধ্যেই শনিবার ভোরে দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলার খবর সামনে আসে। লেবাননের সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, নাবাতিয়ে অঞ্চলে যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন ব্যবহার করে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। রাতভর চলা ওই অভিযানে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে।
এর আগে সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনিভায় নির্ধারিত ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক আচমকাই স্থগিত হয়ে যায়। কূটনৈতিক মহলের ধারণা ছিল, লেবাননে চলতে থাকা সামরিক অভিযানের কারণেই আলোচনার পরিবেশ জটিল হয়ে উঠেছিল। পরে সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা পরিস্থিতিকে কিছুটা স্বাভাবিক করলেও নতুন হামলার ঘটনা ফের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সূত্রের খবর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। একই সময়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিরও বৈঠকে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির খবর প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া আবারও ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনার শুরু থেকেই ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করা। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় বারবার কূটনৈতিক উদ্যোগ বাধার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লেবানন ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেল আভিভের মধ্যেও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে একটি সামরিক পদক্ষেপ গোটা শান্তি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। সংঘর্ষবিরতির পরও যদি হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে ইরান-আমেরিকা আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।



