মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বড় প্রভাব! জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় বিমানের টিকিট হতে পারে ২৫% পর্যন্ত মহার্ঘ্য

হরমুজ প্রণালী ঘিরে জ্বালানি সংকট ও জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিমান সংস্থাগুলির খরচ বাড়ছে, বাড়তে পারে বিমানের টিকিটের দামও।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে পারে বিমান যাত্রীদের পকেটে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির জেরে আগামী দিনে বিমানের টিকিটের দাম ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহলের একাধিক সমীক্ষা। ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উড়ান— দুই ক্ষেত্রেই যাত্রীদের খরচ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় ম্যানেজমেন্ট ও কনসাল্টিং সংস্থা ম্যাককিনসে অ্যান্ড কোম্পানি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। অশোধিত তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জেট ফুয়েলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয়ের উপর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান সংস্থাগুলির মোট পরিচালন খরচের একটি বড় অংশই জ্বালানির জন্য ব্যয় হয়। ফলে জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে সেই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের উপরই বর্তাবে। সেই কারণেই আগামী কয়েক মাসে বিমান ভাড়ায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।

জানা গিয়েছে, বিশ্বের মোট জেট ফুয়েল উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলে অশোধিত তেলের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে জেট ফুয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ২০ ডলার ছিল, বর্তমানে তা ৫০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি ও শ্রম খরচের পর বিমানবন্দর সংক্রান্ত বিভিন্ন শুল্কও বিমান সংস্থাগুলির বড় ব্যয়ের কারণ।

সেই প্রেক্ষাপটে এয়ারপোর্ট ইকোনমিক রেগুলেটরি অথোরিটি অফ ইন্ডিয়া বিমান অবতরণ ও পার্কিং চার্জে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েছে। এর ফলে বিমান সংস্থাগুলির আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়াও গত মে মাসে বিমান শিল্পকে চাঙ্গা রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার ৫,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বিমান সংস্থাগুলির ব্যয়ভার কমানো এবং যাত্রীদের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়া রোধ করা।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করা হয়। ফলে সেখানে যে কোনও ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ভারতের জ্বালানি সরবরাহে আপাতত বড় কোনও সংকট নেই। হরমুজ প্রণালীর বাইরে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পেট্রল ও ডিজেলের উপর আরোপিত কিছু শুল্কও কমানো হয়েছে, যাতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তাহলে বিমান পরিবহণ শিল্পের উপর চাপ আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে বিমানের টিকিটের দাম বৃদ্ধি কার্যত অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর