রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। একের পর এক নেতা-মন্ত্রী দল ছাড়ছেন বা প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এই আবহেই আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। আর সেই পরিস্থিতিতেই বাবার অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা।
সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবন, অভিনয়জগৎ এবং বাবার রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সোনাক্ষী। তাঁর কথায়, বর্তমানে রাজনীতিতেই পুরোপুরি মন দিয়েছেন শত্রুঘ্ন সিনহা এবং তিনি নিজের বর্তমান অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট সন্তুষ্ট।
সোনাক্ষী বলেন, “এখন বাবা রাজনীতি নিয়েই খুব ব্যস্ত। উনি যে জায়গায় আছেন এবং যা করছেন, তাতেই খুশি।” ফলে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে তৃণমূল ছাড়ার জল্পনায় কার্যত জল ঢেলেছেন অভিনেত্রী।
একইসঙ্গে বাবার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন ‘দাবাং’ খ্যাত অভিনেত্রী। সোনাক্ষীর দাবি, শত্রুঘ্ন সিনহা কখনও তাঁর কেরিয়ারে হস্তক্ষেপ করেননি। বরং সবসময় নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরামর্শই দিয়েছেন।
অভিনেত্রীর কথায়, “বাবা কখনও বলেননি যে তিনি আমার জন্য ছবি প্রযোজনা করবেন। উনি সবসময় চাইতেন আমি নিজের চেষ্টায় এগিয়ে যাই।” তিনি আরও জানান, সাধারণত বাবারা সন্তানদের প্রতি কঠোর হন, কিন্তু শত্রুঘ্ন সিনহা বরাবরই তাঁর প্রতি অত্যন্ত নরম ছিলেন।
২০০০ সালে একটি কলেজ ফ্যাশন শোয়ে সলমন খানের নজরে আসেন সোনাক্ষী। এরপর ২০১০ সালে ‘দাবাং’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। প্রথম ছবিতেই বিপুল জনপ্রিয়তা পান তিনি। তবে দীর্ঘদিন তাঁকে ‘শত্রুঘ্ন সিনহার মেয়ে’ হিসেবেই বেশি পরিচিত হতে হয়েছে।
তবে সময়ের সঙ্গে সেই সমীকরণও বদলেছে। এখন অনেকেই শত্রুঘ্ন সিনহাকে ‘সোনাক্ষী সিনহার বাবা’ বলেও চেনেন। এই প্রসঙ্গে মজার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, বিমানে সফরের সময় বিমানসেবিকারা প্রায়ই তাঁর বাবাকে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কি সোনাক্ষী সিনহার বাবা?” আর তাতেই নাকি ভীষণ গর্ব অনুভব করেন শত্রুঘ্ন সিনহা।
সোনাক্ষীর কথায়, “আমি ওঁর মেয়ে, উনি আমার বাবা— এটাই সবচেয়ে বড় পরিচয়। মানুষ যদি আমাকে তাঁর মেয়ে বলে চিনে, তাতে আমি সবসময় গর্ব অনুভব করি।”



