‘নিয়োগ দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড অভিষেক’, মমতাকেও নিশানা; বিস্ফোরক দাবি তাপস মণ্ডলের

জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরক দাবি তাপস মণ্ডলের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়োগ দুর্নীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কেও তুললেন প্রশ্ন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Teacher Recruitment Scam) জামিনে মুক্ত মিডলম্যান তাপস মণ্ডল (Tapas Mondal) এবার বিস্ফোরক একাধিক অভিযোগ সামনে আনলেন। একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, তৃণমূলের (Trinamool Congress) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) গোটা নিয়োগ দুর্নীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এই বিষয়ে অবগত ছিলেন। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও নতুন নথি বা প্রমাণ প্রকাশ করেননি এবং অভিযুক্তদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। এই মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)-সহ একাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁদের অনেকেই জামিনে মুক্তি পান। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে ‘কালীঘাটের কাকু’ এবং ‘সাহেব’ নামে কয়েকটি পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা হলেও, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল।

সেই প্রেক্ষাপটেই তাপস মণ্ডল দাবি করেন, তিনি প্রায় ১৯ কোটিরও বেশি টাকা নগদে দিয়েছেন এবং সেই লেনদেনের হিসাব একটি ডায়েরিতে লিখে রাখতেন। তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা না পৌঁছলে চাকরিপ্রার্থীদের ভেরিফিকেশন আটকে দেওয়া হতো। তাপসের দাবি, ‘কালীঘাটের কাকু’ নামে পরিচিত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র (Sujay Krishna Bhadra) তাঁকে বারবার জানাতেন, ‘সাহেব’ টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

তাপস মণ্ডলের আরও দাবি, তিনি কুন্তল ঘোষ (Kuntal Ghosh)-এর হাতে টাকা দিতেন এবং সেই টাকা পৌঁছে যেত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কাছে। তাঁর বক্তব্য, ওই ‘সাহেব’ আসলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, অভিষেকের নির্দেশ ছাড়া এত বড় নিয়োগ দুর্নীতি সম্ভব নয়। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, এই পুরো বিষয়টি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানতেন।

এতেই থামেননি তাপস মণ্ডল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিনেত্রী-রাজনীতিক সায়নী ঘোষ (Sayani Ghosh)-কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছেন। তবে কোথায় বা কী পরিস্থিতিতে সেই ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনও নির্দিষ্ট তথ্য বা নথি তাঁর কাছে নেই বলেও স্বীকার করেন।

উল্লেখ্য, তাপস মণ্ডলের এই সমস্ত বক্তব্য ব্যক্তিগত অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে এই নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং তাঁদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়াও এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন