প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই নীতি ও কার্যক্রমে গতি—সরকারি চাকরিতে বয়সসীমায় ৫ বছরের ছাড় থেকে শুরু করে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে বৈঠক শেষে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় প্রশাসনিক বদলের বার্তা দিলেন তিনি।
সোমবার দুপুরে নবান্নে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া ও ক্ষুদিরাম টুডু। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা-সহ শীর্ষ আমলারা ছিলেন বৈঠকে। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার চলবে সুশাসন ও নিরাপত্তার নীতিতে, এবং ‘ডবল ইঞ্জিন’ মডেলের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এগোবে রাজ্য।


কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে সরকারি চাকরির আবেদন করার বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় বহু প্রার্থী বয়সসীমা পেরিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের সুযোগ দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায়ও বড় ঘোষণা এসেছে। রাজ্যকে আয়ুষ্মান ভারত-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, ফসল বীমা, পিএমশ্রী, বিশ্বকর্মা, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ ও উজ্জ্বলা যোজনার মতো প্রকল্পগুলিও সক্রিয়ভাবে চালুর কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি তুলে দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।


আইন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর করার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে আইএএস, আইপিএস-সহ রাজ্যের আধিকারিকদের নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা জনগণনা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নির্দেশ কার্যকর করার কথাও জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংবিধান মেনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই নতুন সরকারের লক্ষ্য।
বৈঠকে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৩২১ কর্মীর পরিবারকে সহায়তার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখায় পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডিএ, পে কমিশন, নারী নির্যাতন সংক্রান্ত বিষয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা হবে।







