ধর্ষণ মামলায় নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ রুখতে আরও কঠোর অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। স্পষ্ট নির্দেশ—আগের গাইডলাইন শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও কঠোরভাবে মানতে হবে। সেই বার্তা দেশের সব হাই কোর্টের কাছে পৌঁছে দিতে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট, যা বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি এক নাবালিকা ধর্ষণ মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চ রায়ে উল্লেখ করেছে, আইনত বহুদিন ধরেই নির্যাতিতার নাম-পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও বাস্তবে তা সঠিকভাবে মানা হয়নি। এই ব্যত্যয় রোধ করতেই নতুন করে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই রায়ের প্রতিলিপি দেশের প্রতিটি হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠাতে হবে। উদ্দেশ্য একটাই—নিম্ন আদালত স্তরেও যাতে এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। বিচারপতিরা তাঁদের পর্যবেক্ষণে অতীতের গুরুত্বপূর্ণ ‘নিপুণ সাক্সেনা বনাম ভারত সরকার’ মামলার রায়ের উল্লেখও করেছেন, যেখানে নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ না করার বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের মতে, এই নিয়ম কার্যকর না হওয়ার পিছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে—নিম্ন আদালতগুলির মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং এই ধরনের অপরাধে নির্যাতিতার সামাজিক কলঙ্কের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় না নেওয়া। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই আইন থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকর হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বার্তা, ধর্ষণ মামলায় নির্যাতিতার গোপনীয়তা রক্ষা করা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি ন্যায়বিচারের একটি মৌলিক অংশ। ভবিষ্যতে এই নির্দেশ অমান্য হলে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞরা।



