‘ঘাড় ধরে ফেরত’ শাহি বার্তায় চাপে ঢাকা? বঙ্গে পালাবদলের পর বাড়ছে অনুপ্রবেশ বিতর্ক

বাংলায় বিজেপির জয়ের পর ফের তীব্র বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ বিতর্ক। বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো নিয়ে কড়া বার্তায় চাপে ঢাকা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ইস্যু। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার গঠনের পর বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো নিয়ে নয়াদিল্লির কড়া অবস্থান ঘিরে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপও। বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে বারবার উঠে আসা ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যু এখন ভোটের মঞ্চ ছাড়িয়ে প্রশাসনিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনার কেন্দ্রে। বাংলাদেশের তরফেও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা শুরু হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই বাংলাদেশ সরকারের তরফে প্রতিক্রিয়া আসে। ঢাকার বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান মন্তব্য করেন, সীমান্তে ‘পুশ ইন’ পরিস্থিতি তৈরি হলে বাংলাদেশ ব্যবস্থা নেবে। পাল্টা ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বেআইনি অনুপ্রবেশ ও ফেরত পাঠানোর বিষয়টি কেন্দ্র কঠোর ভাবে মোকাবিলা করবে। তাঁর দাবি, বহু নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মামলা এখনও বাংলাদেশের তরফে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরা— এই তিন সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান এখন কেন্দ্রকে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। অসমে ইতিমধ্যেই ‘পুশ ব্যাক’ নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র সীমান্ত পার করিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না, কারণ অনেক অনুপ্রবেশকারী ফের ভারতে ফিরে আসছে।

এই বিতর্কের শিকড় অবশ্য বহু পুরনো। দেশভাগের সময় থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ— একাধিক ঐতিহাসিক ঘটনার জেরে পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বিশেষ করে পাকিস্তানের ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর সময় প্রাণভয়ে লাখ লাখ মানুষ পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরায় চলে আসেন। যুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও সেই সময় ভারতে আসা বহু উদ্বাস্তু আর ফেরত যাননি।

পরবর্তী দশকগুলিতে সীমান্তে বেআইনি অনুপ্রবেশ, গরু পাচার এবং জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ে। ২০১৪ সালে বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডের পর থেকে কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আরও কড়া অবস্থান নেয়। তদন্তে উঠে আসে বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জেএমবির যোগের অভিযোগ।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল— কত সংখ্যক বেআইনি অনুপ্রবেশকারী ভারতে রয়েছেন, তার নির্ভুল পরিসংখ্যান সরকারের কাছেও নেই। পাশাপাশি তাঁদের শনাক্তকরণ, ডিটেনশন এবং ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও অত্যন্ত জটিল। যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অনুপ্রবেশবিরোধী পদক্ষেপের উদাহরণও এখন ভারতীয় রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসছে।

তবে এই ইস্যু শুধুমাত্র রাজনীতি বা নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সামাজিক ভারসাম্য এবং মানবিক দিক— সব মিলিয়েই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফলে আগামী দিনে এই ইস্যু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত