বাণিজ্য যুদ্ধের আবহে ফের বড় ধাক্কা খেলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুপ্রিম কোর্ট আগেই তাঁর ট্যারিফ নীতিকে বেআইনি বলে বাতিল করেছিল। সেই রায়ের পর পাল্টা ১০ শতাংশ অস্থায়ী অতিরিক্ত ট্যারিফ চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কোর্ট সেই ট্যারিফও বাতিল করে দিল। আদালতের স্পষ্ট মন্তব্য, আইনটি “সঠিক ভাবে প্রয়োগ করা হয়নি” এবং তা “অবৈধ”। চিন সফরের ঠিক আগে এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ধাক্কা বলেই মনে করছে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহল।
গত বছরের অগস্টে একাধিক দেশের পণ্যের উপর নতুন ট্যারিফ ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে এই শুল্কের হার ছিল আলাদা— কোথাও ৫০ শতাংশ, কোথাও আবার ১৯ শতাংশ। ট্রাম্পের দাবি ছিল, বিদেশি পণ্যের উপর অতিরিক্ত কর চাপিয়ে আমেরিকার শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষা করাই তাঁর লক্ষ্য। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হয় একটি খেলনা প্রস্তুতকারী সংস্থা। পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের সেই ট্যারিফ নীতিকে বেআইনি বলে ঘোষণা করে।


তার পরেও পিছিয়ে যাননি ট্রাম্প। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ফের ১০ শতাংশ অতিরিক্ত অস্থায়ী ট্যারিফ চালু করেন। ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারাকে হাতিয়ার করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই ধারায় কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সর্বাধিক ১৫০ দিন পর্যন্ত ট্যারিফ কার্যকর রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে তার পরে শুল্ক চালু রাখতে গেলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
এই অতিরিক্ত ট্যারিফের বিরুদ্ধেও আদালতে মামলা দায়ের করে একাধিক সংস্থা। মামলাকারীদের মধ্যে ছিল মশলা প্রস্তুতকারী সংস্থা বার্লাপ অ্যান্ড ব্যারেল, খেলনা প্রস্তুতকারী সংস্থা বেসিক ফান এবং ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাট প্রশাসন। প্রায় তিন মাস ধরে নিউ ইয়র্কের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কোর্টে মামলার শুনানি চলে।
বৃহস্পতিবার রায় দিতে গিয়ে তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ নম্বর ধারার সঠিক প্রয়োগ করতে পারেনি। সেই কারণেই ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ট্যারিফ বাতিল করা হয়। যদিও আপাতত এই রায়ের সুবিধা পাচ্ছে শুধুমাত্র মামলাকারী সংস্থাগুলিই। অন্য সংস্থার ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।


রায়ের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, “উগ্র বামপন্থী দুই বিচারক” রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইসঙ্গে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আদালতের এ ধরনের রায়ে তিনি আর অবাক হন না। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সপ্তাহে চিন সফরে যাওয়ার আগে এই রায় ট্রাম্পের অবস্থানকে কিছুটা দুর্বল করতে পারে। বিশেষ করে বেজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা নিয়ে আলোচনার ঠিক আগে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।







