তামিল রাজনীতিতে বিস্ফোরক মোড়! ডিএমকে-এআইএডিএমকে জোটের জল্পনায় ইস্তফার হুঁশিয়ারি বিজয়ের

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন ঘিরে চরম নাটকীয়তা। ডিএমকে-এআইএডিএমকে জোটের জল্পনার মাঝেই ১০৭ বিধায়কের ইস্তফার হুঁশিয়ারি দিলেন বিজয়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নজিরবিহীন সমীকরণের ইঙ্গিত। সরকার গঠন ঘিরে অনিশ্চয়তার মাঝেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে হাত মেলাতে পারে— এমন জল্পনায় সরগরম রাজনৈতিক মহল। আর সেই আবহেই বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি দিলেন অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়। তাঁর দাবি, যদি দুই দল জোট বেঁধে সরকার গঠনের পথে এগোয়, তাহলে টিভিকে-র ১০৭ জন বিধায়ক একযোগে ইস্তফা দেবেন। ফলে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সঙ্কট আরও ঘনীভূত হল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে চমক দেখিয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজয়ের দল টিভিকে। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় তাদের ঝুলিতে এসেছে ১০৮টি আসন। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসনের সমর্থন। অর্থাৎ ম্যাজিক ফিগারের থেকে এখনও ১০ আসন দূরে রয়েছে তারা।

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই বিজয়ের দলকে সমর্থন জানিয়েছে। ফলে টিভিকে-র পক্ষে মোট সমর্থন দাঁড়িয়েছে ১১৩। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য এখনও প্রয়োজন আরও পাঁচ বিধায়কের সমর্থন। সূত্রের খবর, সিপিআই, সিপিএম এবং ভিসিকে-র সঙ্গে জোর আলোচনা চালাচ্ছেন বিজয়। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও দলই আনুষ্ঠানিক সমর্থনের চিঠি দেয়নি।

এদিকে রাজনৈতিক অন্দরে জোর গুঞ্জন, এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে এবং এডাপ্পাডি পালানিস্বামীর এআইএডিএমকে বিজেপি-বিরোধী সমীকরণে একসঙ্গে সরকার গঠনের প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারে। বহু দশকের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ভুলে যদি সত্যিই এই দুই দল এক ছাতার তলায় আসে, তাহলে তা হবে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

এই জল্পনাতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজয়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে যদি “অস্বাভাবিক জোট” তৈরি করা হয়, তাহলে তাঁর দলের ১০৭ জন বিধায়কই পদত্যাগ করবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, টিভিকে মোট ১০৮টি আসন জিতলেও বিজয় নিজে দু’টি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন। ফলে কার্যকরী বিধায়ক সংখ্যা এখন ১০৭।

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে রয়েছেন রাজ্যপাল আর ভি আরলেকরও। অভিযোগ, একক বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও এখনও বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। টিভিকে-র অভিযোগ, রাজ্যপালের এই অবস্থান অসাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী। সূত্রের খবর, দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে বিজয়ের দল।

এই ইস্যুতে বিজয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেসও। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। আশ্চর্যজনক ভাবে রাজ্যপালের সমালোচনা করেছে ডিএমকে-ও। দলের এক নেতার বক্তব্য, “রাজ্যপাল যা করছেন, তা সংবিধানবিরোধী এবং তামিল অস্মিতার বিরোধী।”

তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ক্ষমতার সমীকরণ যত জটিল হচ্ছে, ততই বদলাচ্ছে রাজনৈতিক অবস্থান। ফলে শেষ পর্যন্ত তামিলনাড়ুর মসনদে কে বসবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট— এই নাটকীয় পরিস্থিতি দক্ষিণের রাজনীতিকে নতুন মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত