ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তার মধ্যেই পূর্বস্থলীর দোলগোবিন্দপুরে ক্লাবঘর থেকে উদ্ধার হল এক তৃণমূল কর্মীর ঝুলন্ত দেহ। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপ ও লাগাতার হুমকির জেরেই এই ঘটনা। অভিযোগের আঙুল উঠেছে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির দিকে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে ভোট-পরবর্তী হিংসার বিতর্কও।
মৃতের নাম অসিত দেবনাথ। স্থানীয়দের কাছে তিনি দীর্ঘদিনের সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার পূর্বস্থলী ১ ব্লকের নাদনঘাট থানার অন্তর্গত দোলগোবিন্দপুর এলাকার একটি ক্লাবঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।


পরিবারের অভিযোগ, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। অসিত দেবনাথকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের সদস্যদের। মৃতের ভাইয়ের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরেও তাঁকে ভয় দেখানো হয়। পরিবারের দাবি, এলাকায় কিছু ব্যক্তি সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাপ সৃষ্টি করছিল। এই ঘটনার পিছনে সেই কারণই রয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্তের দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে। অসিতের মৃত্যুর পর এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা।
অন্যদিকে বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য সুভাষ পাল সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের দলে এখনও কাউকে নেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় বিজেপির কোনও যোগ নেই।” বিজেপির দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাদের নাম জড়ানো হচ্ছে।


এদিকে উত্তর ২৪ পরগনার বরাহনগরেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে আর এক ঘটনায়। সেখানে এক বিজেপি নেতাকে ভোজালি দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, বাড়ি দখলের প্রতিবাদ করাতেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। আক্রান্ত হয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরাও।
শুধু এই দুই ঘটনাই নয়, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, হামলা ও ভয় দেখানোর অভিযোগ সামনে আসছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। তবে লাগাতার অশান্তির ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।







