বঙ্গ বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে? হবু বিধায়কদের সঙ্গে আজ বসবেন অমিত শাহ

অমিত শাহের কলকাতা সফরের আগে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদ ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা। শুভেন্দু থেকে অগ্নিমিত্রা, একাধিক নাম ঘুরছে বিজেপির অন্দরে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে রাজ্যজুড়ে— বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন কে? শুক্রবার সকালে কলকাতায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর উপস্থিতিতেই বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক হওয়ার কথা, আর সেই বৈঠকেই পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন ঘিরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। ফলে বাংলার পরবর্তী মুখ কে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।

এরই মধ্যে সপ্তদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজভবন। রাজ্যপাল টি এন রবির দফতর থেকে জানানো হয়েছে, ৭ মে থেকেই সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা, বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার অর্থ কার্যত পুরনো সরকারের মেয়াদ শেষ। ফলে নতুন সরকার গঠনের পথ এখন সম্পূর্ণ পরিষ্কার।

মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। গত পাঁচ বছরে বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি রাজ্যে বিজেপির সবচেয়ে আক্রমণাত্মক এবং পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সংগঠনের ভিতরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং তৃণমূল স্তরে যোগাযোগ তাঁকে স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে।

তবে বিজেপির অন্দরে আরও কয়েকটি নাম ঘুরছে জোরালোভাবে। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় বিজেপির সংগঠন গড়ে তোলার অন্যতম কারিগর হিসেবে পরিচিত। দলের আদর্শগত অবস্থান এবং তৃণমূল বিরোধী রাজনীতিতে তাঁর ধারাবাহিক উপস্থিতি তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দাবিদার করে তুলেছে।

বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নামও আলোচনায় রয়েছে। তুলনামূলক তরুণ মুখ হিসেবে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। বিজেপি যদি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনতে চায়, তাহলে সুকান্তর সম্ভাবনা যথেষ্ট বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

একইসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্যের নামও উঠে আসছে সম্ভাব্য মুখ হিসেবে। আরএসএস ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে দলের মধ্যে মতৈক্য তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলে মনে করা হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংগঠনের ভিতরে গ্রহণযোগ্যতা তাঁর বড় শক্তি।

চমকপ্রদ সম্ভাবনা হিসেবে উঠে এসেছে অগ্নিমিত্রা পালের নামও। রাজ্যে বিজেপির অন্যতম পরিচিত মহিলা মুখ তিনি। দিল্লিতে নারী মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে আনার পর বিজেপি যদি বাংলাতেও একই কৌশল নেয়, তাহলে অগ্নিমিত্রাকে নিয়ে চমক দেখা যেতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

এই তালিকায় রয়েছেন স্বপন দাশগুপ্তও। সাংবাদিকতা ও বৌদ্ধিক পরিসরে দীর্ঘদিন পরিচিত এই নেতা এবারের নির্বাচনে রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে।

সব মিলিয়ে, শুক্রবারের বৈঠক এখন বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিজেপি কি অভিজ্ঞ নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখবে, নাকি চমক দিয়ে নতুন মুখ সামনে আনবে— সেই উত্তর মিলতে পারে খুব শীঘ্রই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত