মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতেই স্বস্তির হাসি প্রায় ১০ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের মুখে। এ বছর সামগ্রিক পাশের হার বেড়ে দাঁড়াল ৮৬.৮৩ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। জেলার নিরিখে পাশের হারে প্রথম হয়েছে কালিম্পং। দ্বিতীয় স্থানে পূর্ব মেদিনীপুর এবং তৃতীয় স্থানে কলকাতা। শুক্রবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি। ফল ঘোষণার পরই পরীক্ষার্থীরা অনলাইনে নিজেদের নম্বর ও মার্কশিট দেখতে শুরু করেন।
চলতি বছরে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হয় ১২ ফেব্রুয়ারি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এ বার পরীক্ষার সূচি এগিয়ে আনা হয়েছিল। মোট ২ হাজার ৬৮২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেয় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৮৪ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হল।


পর্ষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৫৩। এর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ লক্ষ ১ হাজার ৭২৪। ছাত্রের সংখ্যা ছিল ৪ লক্ষ ২৩ হাজার ১০৩ এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৫ লক্ষ ৩০ হাজার ৬৫০। অর্থাৎ এ বছরও ছাত্রীদের সংখ্যাই উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। পর্ষদের হিসাব বলছে, ছাত্রদের তুলনায় প্রায় ২৫.৪১ শতাংশ বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
পাশের হারে এ বার শীর্ষে রয়েছে কালিম্পং জেলা। সেখানে পাশের হার ৯৫.১ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পূর্ব মেদিনীপুরের পাশের হার ৯৪.৮২ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে কলকাতা, যেখানে পাশের হার ৯২.৩১ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর, পাশের হার ৯১.৪০ শতাংশ।
সামগ্রিক পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৮৬.৮৩ শতাংশ, যা গত বছরের ৮৬.৫৬ শতাংশের তুলনায় কিছুটা বেশি। শিক্ষা মহলের মতে, দ্রুত পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া এবং সময়মতো মূল্যায়নের কারণে ফল প্রকাশেও গতি এসেছে। এ বছর মোট ৫২ হাজার ৩৮২ জন শিক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে যুক্ত ছিলেন।


প্রতিবছরের মতো এ বারও সাংবাদিক বৈঠকে মেধাতালিকার প্রথম দশের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলাভিত্তিক সাফল্যের বিস্তারিত তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। ফল প্রকাশের পর থেকেই পর্ষদের ওয়েবসাইটে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন পরীক্ষার্থীরা।
নির্দিষ্ট লিংকে, নাম ও রোল নম্বর দিলেই দেখা যাবে ফলাফল।
পর্ষদের ওয়েবসাইট- http://www.wbbsedata.com, http://www.wbbse.wb.gov.in
অ্যাপ- iResults, Madhyamik Results, Edutips App







