আইপিএল ঘিরে একের পর এক বিতর্কের মাঝেই এবার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত আচরণ থেকে শুরু করে হোটেল ছাড়া, ভেপ ব্যবহার কিংবা বাইরের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ— সব কিছুতেই নজরদারি বাড়াচ্ছে বিসিসিআই। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে আট পাতার একটি বিস্ফোরক নির্দেশিকা, যেখানে বিশেষ ভাবে সতর্ক করা হয়েছে ‘হানি ট্র্যাপ’ এবং সম্ভাব্য আইনি জটিলতা নিয়ে। বোর্ডের স্পষ্ট বার্তা, কোনও রকম গাফিলতি আর বরদাস্ত করা হবে না।
চলতি আইপিএলে ইতিমধ্যেই একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউটে রোমি ভিন্ডরকে মোবাইল ব্যবহার করতে দেখা যায়। অন্যদিকে ড্রেসিংরুমে বসে রিয়ান পরাগের ভেপ ব্যবহার নিয়েও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। এমনকি বিমানের মধ্যেও একই ধরনের ঘটনায় যুজ়বেন্দ্র চাহালের নাম জড়ায়। এই সব ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে বোর্ড।


ক্রিকবাজ়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সব আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজ়িকে একটি বিশদ নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ‘হানি ট্র্যাপ’ বা বিভিন্ন ধরনের ফাঁদের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের যে কোনও সময় এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে, যা পরবর্তীতে গুরুতর আইনি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বোর্ডের আশঙ্কা, জনপ্রিয়তা ও তারকাখ্যাতির সুযোগ নিয়ে খেলোয়াড়দের টার্গেট করা হতে পারে। তাই প্রত্যেক দলকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও সতর্ক ও সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, টিম হোটেল ছেড়ে বাইরে যাওয়া নিয়েও নতুন নিয়ম চালু করেছে বোর্ড। অভিযোগ, অনেক সময় খেলোয়াড় বা সাপোর্ট স্টাফরা নিরাপত্তা আধিকারিকদের না জানিয়েই হোটেলের বাইরে যাচ্ছেন। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছে বিসিসিআই।


নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত বা বিনোদনের কারণে হোটেলের বাইরে যেতে হলে আগে থেকে নিরাপত্তা আধিকারিক এবং টিম ইন্টেগ্রিটি অফিসারের অনুমতি নিতে হবে। কে কখন বাইরে যাচ্ছেন, কোথায় যাচ্ছেন এবং কার সঙ্গে দেখা করছেন— তার পূর্ণাঙ্গ নথি রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভেপ এবং ই-সিগারেট ব্যবহার নিয়েও এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বোর্ড। রিয়ান পরাগের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভারতে ভেপ ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ। ফলে ড্রেসিংরুম বা স্টেডিয়ামের সীমাবদ্ধ এলাকায় এই ধরনের কাজ শুধু বোর্ডের নিয়মভঙ্গ নয়, আইন ভাঙার সামিলও।
এ ছাড়াও ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউটে ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি মালিকদের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ নিয়েও আপত্তি তুলেছে বোর্ড। পরিচয় যাচাই থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের সীমাবদ্ধ এলাকায় প্রবেশ— সব ক্ষেত্রেই এবার কড়া নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্রিকেট মহলের মতে, আইপিএলের জনপ্রিয়তা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে নিরাপত্তা ও ভাবমূর্তির ঝুঁকিও। তাই ভবিষ্যতে বড় কোনও বিতর্ক বা আইনি সমস্যার আগেই বোর্ড কঠোর বার্তা দিতে চাইছে।







