‘উন্মাদদের হাতে পরমাণু অস্ত্র নয়’, ইরানের শান্তি প্রস্তাব নাকচ ট্রাম্পের

ইরানের শান্তি প্রস্তাব খারিজ করে ট্রাম্পের কড়া বার্তা—পারমাণবিক ঝুঁকি ঠেকাতে সামরিক পথেই এগোবে আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও ঘনীভূত। ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিলেন—ইরানের শান্তি প্রস্তাবে আপস নয়, বরং প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপই চলবে। তাঁর কথায়, “উন্মাদদের হাতে পরমাণু অস্ত্র তুলে দেওয়া যায় না”—এই অবস্থানেই অটল আমেরিকা। ফলে সংঘাত থামার বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

ইরানের পক্ষ থেকে পাঠানো সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটি, যা পাকিস্তান-এর মাধ্যমে পৌঁছেছিল, সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার আগে মার্কিন সেনা সরানো হবে না। তাঁর বক্তব্য, এখনই পিছু হটলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই বড়সড় বিপর্যয় ঠেকিয়েছে। ইরানে-এর সম্ভাব্য পারমাণবিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই অভিযান বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “আমরা যদি থামাতাম না, তবে ইজরায়েল, গোটা মধ্যপ্রাচ্য এমনকি ইউরোপও বিপদের মুখে পড়ত।”
এই প্রসঙ্গে তিনি বি-২ বোমারু বিমানের ব্যবহার উল্লেখ করে জানান, সামরিক অভিযানে ইরানের সক্ষমতা অনেকটাই ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

আরও কড়া ভাষায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সামরিক পরিকাঠামো এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে। তাঁর দাবি—দেশটির নৌ ও বায়ুসেনা কার্যত অকার্যকর, বিমান-বিধ্বংসী ব্যবস্থা ও রাডার ব্যবস্থাও ধ্বংসপ্রাপ্ত। পাশাপাশি নেতৃত্বের মধ্যেও চরম বিশৃঙ্খলা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, মার্কিন কৌশলগত মহলে নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলছে। সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে যদি সংঘাত বাড়ে, তবে সরাসরি বড় আক্রমণের বদলে ছোট কিন্তু অত্যন্ত লক্ষ্যভেদী হামলার পথে হাঁটতে পারে আমেরিকা। উদ্দেশ্য—ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করে চাপ বাড়ানো, যাতে তারা আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য হয়।

সব মিলিয়ে, কূটনীতি ও সামরিক শক্তির টানাপোড়েনে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্য। এখন নজর, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়—সংঘাত না সমঝোতা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত