ভোট মিটতেই যেন বাস্তবের মুখোমুখি আমজনতা—জ্বালানি থেকে খাবার, পরিবহণ থেকে বিমানভাড়া—সব ক্ষেত্রেই দাম বাড়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট। বাণিজ্যিক গ্যাসের রেকর্ড বৃদ্ধির পর সাধারণ মানুষের আশঙ্কা এখন একটাই—এবার আর কোন কোন খাতে পড়বে মূল্যবৃদ্ধির কোপ?
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারে। এক লাফে প্রায় ৯৯৩ টাকা দাম বাড়া কার্যত নজিরবিহীন। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে হোটেল, রেস্তরাঁ এবং রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলিতে। ফলে বাইরে খাওয়ার খরচ বাড়া এখন সময়ের অপেক্ষা। অনলাইন ফুড ডেলিভারি থেকেও একইভাবে বেশি টাকা গুনতে হতে পারে গ্রাহকদের।
এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, ভোটের পরই এই বাড়তি খরচের বোঝা চাপানো হচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপর। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দাবি করেছেন, মাত্র তিন মাসে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম প্রায় ৮১ শতাংশ বেড়েছে।
যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আগে জানানো হয়েছিল, পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। কিন্তু বাণিজ্যিক গ্যাসের হঠাৎ এই বৃদ্ধির পর সেই আশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে পেট্রোল-ডিজেলের দামও বাড়তে পারে।
এদিকে, অটো এলপিজির দাম ইতিমধ্যেই বেড়েছে। ফলে অটো ভাড়া বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। একইভাবে, বাসভাড়াও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এতে দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচ আরও বেড়ে যাবে, যার প্রভাব পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের উপর সবচেয়ে বেশি।
শুধু সড়ক পরিবহণ নয়, আকাশপথেও চাপ বাড়ছে। এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের দাম দুই লক্ষ টাকা প্রতি কিলোলিটার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই খরচ কমানোর পথে হাঁটছে। Air India, IndiGo এবং SpiceJet-এর মতো সংস্থাগুলি পরিষেবায় কাটছাঁট শুরু করেছে। ভবিষ্যতে বিমানের টিকিটের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে শুধু বড় রেস্তরাঁ নয়, ছোট খাবারের দোকানগুলিও চাপে পড়বে। বহু মানুষ যারা কম খরচে এই দোকানগুলিতে খেয়ে থাকেন, তাঁদের খরচও বাড়বে। এমনকি ব্যবসায়ীদের খরচ সামলাতে না পেরে কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই মূল্যবৃদ্ধির ছাপ স্পষ্ট। এখন প্রশ্ন—এই পরিস্থিতিতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, আর সাধারণ মানুষের উপর চাপ কতটা কমানো সম্ভব হয়।



