গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘রাষ্ট্রীয় মেলার মর্যাদা দেব’ ঘোষণা নীতিন নবীনের

দু’দিনের বঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে গঙ্গাসাগরে গিয়ে কপিলমুনির আশ্রমে পুজো দেন নীতিন নবীন। পুজোর পর গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন বিজেপি সভাপতি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সোমবার সকালে গঙ্গাসাগরে কপিলমুনির আশ্রমে পুজো দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। গঙ্গাস্নান সেরে মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর তিনি জানান, গঙ্গাসাগরের মেলাকে শীঘ্রই ‘রাষ্ট্রীয় মেলা’র মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দু’দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে গঙ্গাসাগরে যান নীতিন। তাঁর সফর ঘিরে আশ্রম চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের চলাচলের উপরও নজর রাখা হয়।

সোমবার সকালে গঙ্গাসাগরে পৌঁছনোর পর গঙ্গায় স্নান করেন নীতিন নবীন। এরপর কপিলমুনির আশ্রমে গিয়ে পুজো দেন তিনি। সেখানেই গঙ্গাসাগর ও কপিলমুনির আশ্রম দর্শনের কথা জানান বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।

পুজো শেষে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে গঙ্গাসাগর মেলার প্রসঙ্গ। নীতিন জানান, গঙ্গাসাগর মেলাকে খুব শীঘ্রই রাষ্ট্রীয় মেলার মর্যাদা দেওয়া হবে। তবে এই ঘোষণার বাস্তবায়নের জন্য কী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা তিনি বিস্তারিত জানাননি।

গঙ্গাসাগরে সাধারণ মানুষ এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন নীতিন। তাঁর বক্তব্য, মানুষের দেওয়া ভালোবাসার মর্যাদা রেখে বিজেপির নেতৃত্ব মানুষের সেবায় কাজ করবে।

এরপর হেলিকপ্টারে করে গঙ্গাসাগর থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।

নীতিন নবীনের গঙ্গাসাগর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের তরফে একাধিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আশ্রম চত্বরের পাশাপাশি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়।

গঙ্গাসাগরের দিকে যাওয়ার পথে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। ভিআইপি সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

নীতিন নবীনের বর্তমান বঙ্গ সফর শুরু হয়েছিল রবিবার। ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বরের এই সফরে তিনি রাজ্য বিজেপির সংগঠন নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন। রবিবার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে দলের পদাধিকারী, জেলা নেতৃত্ব, সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক হয়। সাম্প্রতিক সাংগঠনিক রদবদলের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম বঙ্গ সফর।

দলীয় সংগঠন এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ের উপরেও জোর দেন নীতিন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দলীয় সংগঠন ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়টিও তাঁর বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য ছিল।

দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবারের সাংগঠনিক বৈঠকে নীতিন নবীন বিজেপিতে নতুন করে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের নিয়েও সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দলে কারা নতুন করে আসছেন, তাঁদের সম্পর্কে যথেষ্ট খোঁজখবর নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জেলা নেতৃত্বকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, সংগঠন সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন সদস্যদের বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের উপরও জোর দিতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সাম্প্রতিক সাংগঠনিক পরিবর্তনের পর নীতিনের বঙ্গ সফরে এই বার্তা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে দলীয় সূত্রের বক্তব্য।

গঙ্গাসাগরে পুজো দিয়ে নীতিনের ‘রাষ্ট্রীয় মেলা’র ঘোষণা তাঁর দু’দিনের বঙ্গ সফরের রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে আলাদা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে সামনে এসেছে। তবে এই ঘোষণার পর কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন