বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের ঐতিহাসিক মুহূর্তের আগে শুক্রবার রাত পর্যন্ত জোর জল্পনা চলল নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— কারা থাকছেন তাঁর প্রথম ক্যাবিনেটে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক মোহনচরণ মাঝি এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব গভীর রাত পর্যন্ত জয়ী বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চালিয়ে যান। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ ঘিরে তাই রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার রাজভবনের বদলে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডেই হতে চলেছে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসানের পর এই প্রথম বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ফলে গোটা অনুষ্ঠানকে ঘিরে গেরুয়া শিবিরে আবেগ, উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব— সবই রয়েছে চরমে।


শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর লোকভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি পেশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপাল আর এন রবির হাতে জয়ী বিজেপি বিধায়কদের স্বাক্ষরিত সমর্থনপত্র তুলে দেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, তাপস রায়, সুকান্ত মজুমদার-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। উপস্থিত ছিলেন ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিও।
বিজেপি সূত্রে খবর, প্রথম দফায় ৮ থেকে ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে শপথ নিতে পারেন। মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ও সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কে কোন দপ্তর পাবেন, তা নিয়েও চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাবনিকাশ। শপথের পর বিধানসভায় নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে দপ্তর বণ্টনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এবারের শপথগ্রহণে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বাঙালিয়ানাও। ২৫ বৈশাখ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর দিনেই শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপি সূত্রে খবর, নতুন মন্ত্রীরা ধুতি-পাঞ্জাবি বা শাড়ি পরে শপথ নেবেন। অনুষ্ঠান মঞ্চে থাকছে বাংলার সংস্কৃতির ছোঁয়াও।


আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপি শাসিত ২০টির বেশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। সেই কারণে ব্রিগেড এবং তার আশপাশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রায় চার হাজার পুলিশকর্মী এবং আধিকারিককে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তার দায়িত্বে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও থাকবে মোতায়েন। গোটা ব্রিগেড চত্বরকে প্রায় ৩৫টি সেক্টরে ভাগ করেছে পুলিশ। প্রতিটি ব্লকের দায়িত্বে থাকবেন এক জন করে আইপিএস অফিসার। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ নিজে গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকিতে থাকবেন।
বৃহস্পতিবারের ভারী বৃষ্টিতে ব্রিগেডের বড় অংশ কাদায় ভরে গিয়েছিল। শুক্রবার সকাল থেকে আর্থমুভার দিয়ে জল-কাদা সরিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মাঠ প্রস্তুতির কাজ চলে। স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজিও মঞ্চ এবং আশপাশের এলাকা খতিয়ে দেখে। তৈরি হয়েছে একাধিক হ্যাঙার। মূল মঞ্চের সামনের অংশেই হবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।
পুলিশের তরফে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে— নিরাপত্তার কারণে ব্রিগেডে ছাতা, ব্যাগ বা জলের বোতল না নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শহরে পণ্যবাহী যান চলাচলের উপরেও জারি হয়েছে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা।







