ট্রেন না পেয়ে বাসে করেই দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন তৃণমূল কর্মী এবং একশো দিনের কাজের কার্ড হোল্ডাররা। এদিকে তুমুল বৃষ্টির মধ্যে রবিবার সকাল ৫টা নাগাদ ঝাড়খণ্ডের কোডার্মা এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ল একটি বাস। হতাহতের খবর না থাকলেও অল্প বিস্তর জখম হয়েছে যাত্রীরা।
সমস্ত বাধা বিপত্তি অগ্রাহ্য করে দিল্লির উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছে তৃণমূল। আগামী ২ ও ৩ তারিখ পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক রাজধানীতে জমায়েত করতে চায় রাজ্যের শাসক দল। অভিযোগ, বাংলার বকেয়া অর্থ আটকে রেখেছে কেন্দ্র সরকার। এবার কিন্তু তৃণমূলের 'দিল্লি চলো' প্রসঙ্গে কটাক্ষ করলেন বিজেপির সাংসদ অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, এটা লোক দেখানো সার্কাস!
আগামী ২ ও ৩ তারিখ দিল্লিতে আন্দোলন হবেই, ক্ষমতা থাকলে কেউ আটকে দেখাক! শনিবার দুপুরে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ মুহূর্তে ট্রেন বাতিল প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, মোদী সরকারের স্বৈরাচারী মানসিকতা। একই সঙ্গে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে অভিষেক বলে দিলেন, যদি দিল্লিতে একজনও তৃণমূল কর্মী বা খেটে খাওয়া মানুষের গায়ে সামান্যতম আঁচড় লাগে তাহলে তার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
কথা ছিল শনিবার রাত ৮টায় হাওড়া থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। কিন্তু, যাত্রা শুরুর মাত্র ১৪ ঘন্টা আগে রেলের তরফে জানানো হয় যে, তৃণমূলের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। এবার বিকল্প ব্যবস্থা করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, আজ সন্ধ্যা ৬টার সময় ৫০টি বাসে চেপে দিল্লির পথে যাত্রা শুরু করবে রাজ্যের শাসক দলের জনপ্রতিনিধি ও একশো দিনের কাজের জন জব হোল্ডাররা।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে আগামী ২ ও ৩রা অক্টোবর দিল্লিতে ঘেরাও অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের শাসক দলের। কিন্তু তার আগেই জোড়া ধাক্কায় কাবু তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথমে ইডির তরফে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে (৩ অক্টোবর) তলব করা হয়। আর এবার দিল্লি যাত্রার মাত্র ১৪ ঘন্টা আগে পূর্ব রেলের তরফে জানানো হল, বিশেষ ট্রেন পাওয়া যাবে না। ফলে কিন্তু তৃণমূলের দিল্লি অভিযান নিয়ে বেশ সংশয় তৈরি হয়েছে এ কথা বলাই বাহুল্য।
তৃণমূলের নানুর পার্টি অফিস থেকে মুছে ফেলা হল একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের নাম ও ছবি। ফলে, একটা প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে, তাহলে কি অনুব্রত সত্যিই অতীত হয়ে গেলেন তৃণমূলের জন্য? লাল মাটির বাতাসে কান পাতলে আগে শোনা যেত, অনুব্রত মণ্ডলের কথায় নাকি সেখানে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়! অথচ, সেই হুংকার, সেই প্রতাপ কিছুই আর দেখা যায় না বিগত এক বছর ধরে।
সমস্ত নির্বাচনে যেখানে ভরাডুবি হচ্ছে, সেখানে তেহট্ট সমবায় সমিতির নির্বাচন কিন্তু ব্যতিক্রম। এখানে তৃণমূল ও বিজেপিকে হারিয়ে বড় জয় পেল সিপিআইএম। তেহট্টের ১ নম্বর ব্লকের মৃগী কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির নির্বাচনের প্রায় সবকটি আসন দখল করল বামেরা।