নজরবন্দি ব্যুরোঃ আগামী ২ ও ৩ তারিখ দিল্লিতে আন্দোলন হবেই, ক্ষমতা থাকলে কেউ আটকে দেখাক! শনিবার দুপুরে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ মুহূর্তে ট্রেন বাতিল প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, মোদী সরকারের স্বৈরাচারী মানসিকতা। একই সঙ্গে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে অভিষেক বলে দিলেন, যদি দিল্লিতে একজনও তৃণমূল কর্মী বা খেটে খাওয়া মানুষের গায়ে সামান্যতম আঁচড় লাগে তাহলে তার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ মেলেনি বিশেষ ট্রেন, বাসে চেপেই দিল্লির পথে TMC, বিকল্প ব্যবস্থা করলেন Abhishek
আজ দুপুরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “দিল্লিতে কোনও কিছু করতে আমাদের অনুমতি দিচ্ছে না। এটা একটা স্বৈরাচারী সরকার। প্রধানমন্ত্রী নিজে বাড়ি বানিয়ে থাকবেন আর সাধারণ মানুষ কোথায় থাকবে? প্রথমে ইডি দিয়ে হল না, এবার রেল্কে কাজে লাগিয়ে ট্রেন বাতিল করছে। এসব করে আমাদের আটকানো যাবে না। আগামীআগামী ২ ও ৩ তারিখ দিল্লিতে আন্দোলন হবেই, ক্ষমতা থাকলে কেউ আটকে দেখাক!”

সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে। সাধারণ মানুষ কাজ করেও টাকা পাচ্ছে না। হকের লড়াই তৃণমূল লড়তে জানে। আগামী দিনে দিল্লি থেকে টাকা ছাড়তেই হবে। আমরা ভিক্ষা চাইছি না। দলে দলে মানুষ উপস্থিত হয়েছেন এক কথায়। ট্রেন বাতিল করেছে। আমরা বাসের ব্যবস্থা করেছি। প্রয়োজনে আরও যা যা দরকার সব করব। কিন্তু চুপ করে থাকতে পারব না।”
তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রথমে শনিবার সকাল ১০টার দিকে বাস ছাড়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। আপাতত ৫০টি বাসের ব্যবস্থা করা হলেও পরবর্তীতে প্রয়োজন পড়লে আরও বাস ভাড়া নেওয়া হবে। প্রতিটি বাসেই ৭০ থেকে ৭২টি আসন রয়েছে। আসনের অতিরিক্ত যাত্রী কোনও বাসেই নেওয়া হচ্ছে না। আসানসোল, ধানবাদ, বারাণসী, আগরা হয়ে দিল্লি পৌঁছবে বাসগুলি। সব ঠিক থাকলে আজ সন্ধ্যা ৬টার সময় নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে বাস ছাড়বে এবং তা রবিবার রাতের মধ্যেই পৌঁছে যাবে দিল্লিতে।

মোদী সরকারের স্বৈরাচারী মানসিকতা! শেষ মুহূর্তে ট্রেন বাতিল প্রসঙ্গে বিস্ফোরক অভিষেক
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে আগামী ২ ও ৩রা অক্টোবর দিল্লিতে ঘেরাও অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের শাসক দলের। কিন্তু তার আগেই জোড়া ধাক্কায় কাবু তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথমে ইডির তরফে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে (৩ অক্টোবর) তলব করা হয়। আর দিল্লি যাত্রার মাত্র ১৪ ঘন্টা আগে পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ ট্রেন পাওয়া যাবে না।
তৃণমূলের একাংশের আশঙ্কা, বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশে গেলে বাধার মুখে পড়তে হবে পারে বাসগুলিকে। তবে সে নিয়ে ভাবিত নন কর্মীরা। সেই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেছেন, “বিজেপি শাসিত কোনও রাজ্যে যদি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের গায়ে হাত পড়ে, তা হলে আমরাও ছেড়ে কথা বলব না।”







