নজরবন্দি ব্যুরোঃ কথা ছিল শনিবার রাত ৮টায় হাওড়া থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। কিন্তু, যাত্রা শুরুর মাত্র ১৪ ঘন্টা আগে রেলের তরফে জানানো হয় যে, তৃণমূলের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। এবার বিকল্প ব্যবস্থা করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, আজ সন্ধ্যা ৬টার সময় ৫০টি বাসে চেপে দিল্লির পথে যাত্রা শুরু করবে রাজ্যের শাসক দলের জনপ্রতিনিধি ও একশো দিনের কাজের জন জব হোল্ডাররা।
আরও পড়ুনঃ দার্জিলিং ঘুম স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত টয় ট্রেন! চলছে উদ্ধার কাজ
তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রথমে শনিবার সকাল ১০টার দিকে বাস ছাড়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। আপাতত ৫০টি বাসের ব্যবস্থা করা হলেও পরবর্তীতে প্রয়োজন পড়লে আরও বাস ভাড়া নেওয়া হবে। প্রতিটি বাসেই ৭০ থেকে ৭২টি আসন রয়েছে। আসনের অতিরিক্ত যাত্রী কোনও বাসেই নেওয়া হচ্ছে না। আসানসোল, ধানবাদ, বারাণসী, আগরা হয়ে দিল্লি পৌঁছবে বাসগুলি। সব ঠিক থাকলে আজ সন্ধ্যা ৬টার সময় নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে বাস ছাড়বে এবং তা রবিবার রাতের মধ্যেই পৌঁছে যাবে দিল্লিতে।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে আগামী ২ ও ৩রা অক্টোবর দিল্লিতে ঘেরাও অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের শাসক দলের। কিন্তু তার আগেই জোড়া ধাক্কায় কাবু তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথমে ইডির তরফে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে (৩ অক্টোবর) তলব করা হয়। আর দিল্লি যাত্রার মাত্র ১৪ ঘন্টা আগে পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ ট্রেন পাওয়া যাবে না।
ট্রেন না মেলার পর নেতাজী ইন্ডোরে দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ”সেপ্টেম্বর মাসে আমরা দিল্লি যাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম রেলের কাছে। জানিয়েছিলাম, বাংলার নানা প্রান্তের মানুষজন যাবেন। তাঁদের জন্য একটা আলাদা ট্রেনের ব্যবস্থা করা হোক। সেইমতো টিকিটের আগাম টাকাও দেওয়া হয়েছল। এখন শেষ মুহূর্তে জানাচ্ছে যে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা যায়নি! গরিব মানুষকে আপনারা আটকাতে চাইছেন। এত ভয় কীসের? দিল্লি আমরা যাবই। আপনাদের ভরসায় বসে নেই। আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করেছি।”

মেলেনি বিশেষ ট্রেন, বাসে চেপেই দিল্লির পথে TMC, বিকল্প ব্যবস্থা করলেন Abhishek
অর্থাৎ, অভিষেক যা বলেছিলেন শুক্রবার রাতে তাই বাস্তবায়িত হল শনিবার সকালের মধ্যেই। ট্রেন না পেলেও বাসে করেই দিল্লিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যাচ্ছে তৃণমূল। আরও জানা গিয়েছে, দিল্লির পাহাড়গঞ্জ রোড, চিত্তরঞ্জন পার্ক, দিল্লি কালীবাড়ি সংলগ্ন এলাকার অতিথিশালা এবং পান্থনিবাসগুলিতে বাসযাত্রীদের থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
তৃণমূলের একাংশের আশঙ্কা, বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশে গেলে বাধার মুখে পড়তে হবে পারে বাসগুলিকে। তবে সে নিয়ে ভাবিত নন কর্মীরা। সেই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেছেন, “বিজেপি শাসিত কোনও রাজ্যে যদি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের গায়ে হাত পড়ে, তা হলে আমরাও ছেড়ে কথা বলব না।”









