নজরবন্দি ব্যুরোঃ তৃণমূলের নানুর পার্টি অফিস থেকে মুছে ফেলা হল একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের নাম ও ছবি। ফলে, একটা প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে, তাহলে কি অনুব্রত সত্যিই অতীত হয়ে গেলেন তৃণমূলের জন্য? লাল মাটির বাতাসে কান পাতলে আগে শোনা যেত, অনুব্রত মণ্ডলের কথায় নাকি সেখানে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়! অথচ, সেই হুংকার, সেই প্রতাপ কিছুই আর দেখা যায় না বিগত এক বছর ধরে। কারণ, গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার হয়ে অনুব্রত মণ্ডলের বর্তমান ঠিকানা তিহাড় জেল। এবার নানুরের হোসেনপুর ন-নগর কড্ডা তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে মুছে ফেলা হল তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতির নাম ও ছবি।
আরও পড়ুনঃ শপথ নিতে কলকাতায় ধূপগুড়ির নির্মল, পরামর্শ নিতে দেখা করবেন শোভনদেবের সঙ্গে


এত দিন নানুরের হোসেনপুর ন-নগর কড্ডা তৃণমূলের পার্টি অফিসে গেলেই বাইরে দেখা যেত একপাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি আর অন্যপাশে অনুব্রত মণ্ডলের ছবি। নীচেও লেখা থাকত ‘মমতা ব্যানার্জী জিন্দাবাদ’, ‘অনুব্রত মণ্ডল জিন্দাবাদ’। অথচ শুক্রবার সকালে সেখানে গিয়ে দেখ গেল, মুখ্যমন্ত্রীর নাম ও ছবি থাকলেও অনুব্রতর নাম ও ছবির জায়গায় চুনকাম করা!

দলীয় কার্যালয় থেকে মুছে ফেলায় গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। তবে কি তাঁকে ছেঁটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হল? প্রশ্ন উঠছে। তবে নানুরের ব্লক সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, “এটা স্পষ্টভাবে আমি জানি না। তবে এমনও হতে পারে পুজোর আগে হয়ত দেওয়াল নতুন করে রং করা, ধোয়া মোছা করা চলছে। হয়ত ছবি মুছে নতুন করে ছবি করবে। আমি খোঁজ নিয়ে বলব।”

এই মুহূর্তে বীরভূমে তৃণমূলের ভরসাযোগ্য নেতার নাম কাজল শেখ। পঞ্চায়েত নির্বাচনেও তিনি দলকে সাফল্য এনে দিয়েছেন। অনুব্রত না থাকার বিন্দুমাত্র আঁচ ফলাফলে পড়তে দেননি। এক সময় অনুব্রত আর কাজল দু’জনেই তৃণমূল করলেও তাঁদের মধ্যে আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক ছিল। যে কথা কমবেশি সকলেরই জানা। আর তাই বর্তমানে অনুব্রতর প্রয়োজন ফুরিয়েছে তৃণমূলের এমনইটাই বলছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।


পার্টি অফিস থেকে ‘উধাও’ নাম-ছবি, তৃণমূলের ‘সচেতন’ পদক্ষেপ বোঝাল Anubrata সত্যিই অতীত বীরভূমে
অনুব্রত নাম ও ছবি মোছার প্রসঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরার বক্তব্য, ”এতে অবাক হবার কিছুই নেই। অনুব্রত মণ্ডলের বিরোধী শিবিরই এখন বর্তমানে তৃণমূল চালাচ্ছেন, কাজল শেখের মতো লোকজনকে তিনি একসময় দমিয়ে রেখেছিলেন, কোণঠাসা করেছিলেন, উঠতে দেননি। তিনি এখন জেলে। স্বাভাবিকভাবেই জেলায় নিজেই ছবি হয়ে উঠেছেন।”









