সিকিমে ভূমিধস (Sikkim Landslide) এবং ভুটানে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গে নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ে একাধিক রাস্তা ধসে বন্ধ, ভুটানের নদী-ঝোরা ফুলে ওঠায় হড়পা বানের ঝুঁকি বেড়েছে। এদিকে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department – IMD) উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছে।
শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে সিকিমের (Sikkim) একাধিক এলাকায় ফের ভূমিধস নেমেছে। গুইয়া খোলসা এলাকায় ইয়াংগাং-সিংতাম সড়ক ধসে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পশ্চিম সিকিমের লেগশিপ (Legship)-এর কাছেও রাস্তার বড় অংশ ভেঙে পড়ায় ওই রুটে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে লাভা-কোলাখাম (Lava-Kolakham) সড়কেও ধস নামায় যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। পাহাড়ে টানা বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা (Teesta River)-র জলস্তরও দ্রুত বাড়ছে। যদিও ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে (NH-10) যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবুও দীর্ঘ যানজটে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেককেই বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে।
শুধু সিকিম নয়, ভুটানেও (Bhutan) প্রবল বৃষ্টিতে একাধিক নদী ও ঝোরা উপচে পড়েছে। দাওলা খোলা (Daola Khola) এলাকায় গেলেফু-ত্রংসা মহাসড়ক (Gelephu-Trongsa Highway) হড়পা বানের জলে ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সে দেশের প্রশাসন।
ভুটানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেট্রোলজি (National Center for Hydrology and Meteorology) জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণ ভুটানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে বন্যা ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri), আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) এবং কোচবিহার (Cooch Behar) জেলায় ২০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনায় লাল সতর্কতা জারি হয়েছে।
একইসঙ্গে দার্জিলিং (Darjeeling) ও কালিম্পং (Kalimpong) জেলায় অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ভূমিধস এবং হড়পা বানের আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur) জেলাতেও ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। নদী সংলগ্ন এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। নদীতে স্নান, মাছ ধরা এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ২৮ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সিকিম, ভুটান এবং উত্তরবঙ্গজুড়ে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, তরাই-ডুয়ার্সে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং হড়পা বানের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজন ছাড়া পাহাড় ও নদী সংলগ্ন এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে








