নজরবন্দি ব্যুরো: চন্দ্রবিন্দু-র একটা গান বোধহয় কমবেশী সবাই শুনেছেন- ‘তোমার দেখা নাই রে, তোমার দেখা নাই’। কলকাতার বাঙালির মন এখন তাই বলছে। তবে, ‘তুমি’ রূপান্তরিত ‘বর্ষা’য়। কারণ, শত চাইলেও বৃষ্টির দেখা নেই। আষাঢ় মানেই বৃষ্টি। অন্তত বাঙালি তাই জানে, মানেও বটে! কত অজস্র কবিতা লেখা হয়েছে আষাঢ় আর বরষাকে নিয়ে তার ইয়ত্তা নেই। অথচ মাসের দ্বিতীয় দিন পড়ে গেলেও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কিন্তু অধরাই।
আরও পড়ুন: আঁধার ঘনাইছে গুজরাতে! ‘বিপর্যয়’ তান্ডবে হত ২, বিদ্যুতহীন গ্রামের পর গ্রাম


উত্তরবঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করেছে। তবে মালদার পেরোতে যেন মানা মৌসুমী বায়ুর! ফলে গরমে জেরে নাজেহাল শহরবাসীর। আবহাওয়া দফতর অবশ্য জানিয়েছে, আগামী রবিবার থেকে বুধবারের মধ্যে মৌসুমী বায়ু দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করতে পারে। ফলে রাতারাতি বৃষ্টিপাত না হলেও ভ্যাপসা গরম কেটে পরিবেশ কিছুটা শীতল হবে। উল্লেখ্য, শুক্রবার, আষাঢ়ের দ্বিতীয় দিনে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে, আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, গরমের অনুভূতি কিন্তু ৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪ ডিগ্রি বেশি। রাতে তাপমাত্রা আরও বাড়ছে। ফলে চরম অস্বস্তিকর পরিবেশ চলছেই। সকলেরই মত, এবারের গরম যেন অনেকখানিই বেশী। এখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টির আশায় বুক বাঁধছে বঙ্গবাসী।

অন্যদিকে, আবহাওয়া দফতরের মতে, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি আসতে দেরী হবার কারণ কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’। কারণ, বঙ্গোপসাগরের যাবতীয় জলীয় বাষ্প ‘বিপর্যয়’ টেনে আরব সাগরে নিয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই বর্ষা আসতে আরও বিলম্ব হচ্ছে। আগামী রবিবারের পর বৃষ্টির যে সম্ভাবনা রয়েছে তা কতটা সত্যি হয় সেটাই দেখার।

তবে, উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হতে পারে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির কিছু অংশে। দার্জিলিং ও কালিম্পঙে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অন্যদিকে, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় তাপপ্রবাহ চলবে রবিবার পর্যন্ত।


ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ট শহরবাসী, দক্ষিণবঙ্গে কবে আসছে বর্ষা?








