নজরবন্দি ব্যুরো: সব আশঙ্কা সত্যি করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেতেই গুজরাত উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’। যার জেরে শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টিপাত, যা চলেছে রাতভর। হাওয়া বয়েছে ১১৫-১২৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা বেগে। ‘বিপর্যয়’-এর তাণ্ডবে মৃত্যু হয়েছে ২ ব্যক্তির, যারা আবার সম্পর্কে পিতা-পুত্র। জানা গিয়েছে, নিজেদের পোষ্য ছাগল বাঁচাতে গিয়েই তাঁদের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি, আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৩ জন। আবার, বিদ্যুৎ নেই প্রায় ৯৫০টি গ্রামে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ল্যান্ডফলের পর কিছুটা শক্তি হারিয়েছে বিপর্যয়। ফলে শুক্রবারের মধ্যে এটি নিম্নচাপে পরিণত হতে চলেছে।
আরও পড়ুন: মহাকাশ থেকে কেমন দেখাচ্ছে বিপর্যয়কে? দেখে নিন ছবি


‘বিপর্যয়’-এর তাণ্ডবে বিধ্বস্ত গুজরাত। সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছ উপকূলে আঘাত হেনে মধ্যরাতে গুজরাতের নালিয়াতে পৌঁছয় ‘বিপর্যয়’। ল্যান্ডফল হয় জাখাউতে। তবে, গুজরাতের পর ‘বিপর্যয়’-এর এবারের নিশানা রাজস্থান। খুব দ্রুত বেগে সেই দিকেই এগোচ্ছে সে। ফলে চিন্তার ভাঁজ আরও বাড়ছে বই কমছে না। তবে, কেন্দ্রের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সদা প্রস্তুত রয়েছে। লাল সতর্কতাও জারি আছে বেশ কয়েকটি জেলায়।

প্রসঙ্গত, ‘বিপর্যয়’-এর জেরে ক্ষয়ক্ষতি খুব একটা কম হয়নি। গুজরাতের প্রায় ৯৫০টি গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। কারণ, ৩০০ টিরও বেশি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়েছে। ভূমিচ্যুত হয়েছে শতাধিক গাছ। সূত্রের খবর, ১১ টি গ্রামে বিদ্যুৎ ফেরানো সম্ভব হয়েছে। বাকী জায়গাগুলিতেও মেরামতের কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টেলিফোনে কথা বলেছেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেলের সঙ্গে। ঝড়ের কারণে গির অরণ্যের বিভিন্ন বন্য পশুরাও ক্ষতগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের সুরক্ষার বিষয়েও খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে, বাংলায় কিন্তু ভ্যাপসা গরম একইভাবে জারি রয়েছে। কোনোভাবেই দেখা নেই বৃষ্টির। এর কারণেও ‘বিপর্যয়’-কে দায়ী করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর বলছে, বঙ্গোপসাগরের যাবতীয় জলীয় বাষ্প ‘বিপর্যয়’ টেনে আরব সাগরে নিয়ে গিয়েছে। ফলে দক্ষিণবঙ্গে কিন্তু আগামী বেশ কয়েকদিন এরকম তাপপ্রবাহই চলবে।


আঁধার ঘনাইছে গুজরাতে! ‘বিপর্যয়’ তান্ডবে হত ২, বিদ্যুতহীন গ্রামের পর গ্রাম








